উত্তর সিটির ৪ বছরে সেরা কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান

উত্তর সিটির ৪ বছরে সেরা কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান

সুমন সরদার: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান ৪ বছরের শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সময়ের স্রোতে গা না ভাসানো এমন জনপ্রতিনিধির প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসস্থান ও নিজের ওয়ার্ড, সংসদ ভবন, ২৫০ জন এমপির আবাসস্থল, নির্বাচন কমিশন , আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত হওয়ায় দেশের অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ফরিদুর রহমান খান ইরান নিরলস পরিশ্রম আর যোগ্য নেতৃত্বগুণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করে আজ সর্ব সাধারণের ভালবাসায় সিক্ত। 

জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের শতকোটি টাকা দুর্নীতি ও জুয়ার আসর পরিচালনার সংবাদ দেশে ছড়িয়ে পড়লেও ফরিদুর রহমান ইরান ও তার সফলতার সংবাদ থাকে অপ্রকাশিত। ক্রিয়ামোদি এ কাউন্সিলর টাকার পাহাড় নয়, তার এলাকার দুটি ক্লাবে ক্রিকেট টিম পরিচালনার উপার্জিত অর্থে নির্মাণ করেছেন মসজিদ। নিজস্ব ফান্ড থেকেও অনুদান দিয়ে থাকেন সকল মসজিদ, মন্দির ও গির্জায়। জলাবদ্ধতা দুরীকরণে সুয়ারেজ লাইনের কাজ করিয়েছেন আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে। দূরদর্শী এই মানুষটি নিজ অর্থায়নে পরিচালনা করছেন পথ শিশুদের জন্য দুটি স্কুল। প্রতিবছর ২টি ক্যাম্প করে হাতে নেন রক্তদান কর্মসূচি। এরই মধ্যে ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রায় লক্ষ্য মানুষের রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। উন্নয়ন করেছেন প্রতিটি রাস্তার। পান্থপথ সীমানা ধরে পূর্ব রাজাবাজার, পশ্চিম রাজাবাজার , ইন্দিরা রোড, মণিপুরি পাড়া, আগারগাঁও শিশু মেলার বিস্তৃর্ণ জায়গা জুড়ে এ ওয়ার্ডের পরিধি। ওয়ার্ডটির ৭০ শতাংশ রয়েছে সিসি টিভির আওতায়। প্রতিবন্ধীদের জন্য সু-ব্যবস্থা রেখে স্থাপন করেছেন অত্যাধুনিক ২টি পাবলিক টয়লেট। টিসিএসপি ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে এলাকার সকল ময়লা দ্রুত পরিষ্কার করা ও ময়লা ফেলার সুদৃশ্য ডাম্পিংও করেছেন তিনি। 

সারাদেশ যখন ডেঙ্গু আতঙ্কে ছিল অস্থির, তখন বসে থাকেননি তিনি। লোক দেখানো কর্মসূচি নয়, ২৫টি টিম করে পুরো ওয়ার্ড জুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি বাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনিই প্রথম তার এলাকা এডিসমুক্ত বলে ঘোষণা করেন। মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় থাকেন তিনি সোচ্চার। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রাখছেন অনন্য অবদান।

শিক্ষা বান্ধব এ কাউন্সিলর বছরের শুরুতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কুল ফি ও পোশাক দিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সফরের ব্যয়ভার বহন করে থাকেন। সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী ফরিদুর রহমান খান ইরান বর্তমানে তেজগাঁও বিশ^বিদ্যালয় কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, রোটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতার সাথে নিজের উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।  

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিক মিয়া বাংলাদেশের আলোকে বলেন, আমি অনেক কাউন্সিলরকে দেখেছি ,কথা বলেছি কিন্তু উনার মত কাউকে দেখিনি। কোন সমস্যা নিয়ে গেলে হাসি মুখে কথা বলেন এবং প্রত্যেকটা মানুষের জন্য তার যে মমতা ভরা মন তা অন্য কারো মধ্যে পাই না। উনাকে এ এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে না, আমাদের খুব আপন মনে হয়। কেউ কিছু চেয়ে কখনও না পেয়ে ফিরে গেছেন বলে আমার জানা নেই। 

ফরিদুর রহমান খান ইরানের রয়েছে বণার্ঢ্য এক রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ছিলেন তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের তিন বারের সফল সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী সেচ্ছা সেবক লীগের সফল সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪ বছরের শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর হলেন, তারপরও কেন আপনি প্রচারবিমুখ থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদুর রহমান খান ইরান বাংলাদেশের আলোকে বলেন, আমি কোন প্রশংসা পেতে নয়, আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি মাত্র। তারপরও নিন্দুকের সমালোচনা থাকবে। সব কিছু ছাপিয়ে যত দিন সুযোগ পাব জনগণ ও দলের জন্য কাজ করে যাব। আগামী মাসের ১২ তারিখ সেচ্ছাসেবক লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের কাউন্সিলে নুতন কোন নেতৃত্বে আসছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করেন আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে চাই। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমার কোন চাওয়া ছিল না আর থাকবেও না। 

কর্মব্যস্ত ও দলের জন্য পরিশ্রমী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪ বছরের শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান ফুটপাত থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় সদা হাসোজ্জ¦ল এ কাউন্সিলর দিনে-দিনে হয়ে উঠেছেন গরিব অসহায় মানুষের আশা -ভরসার সর্বোৎকৃষ্ট নিরাপদ আশ্রয়।