কবর থেকে রায়হানের লাশ তোলার নির্দেশ

কবর থেকে রায়হানের লাশ তোলার নির্দেশ

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান উদ্দিনের মরদেহ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কবর থেকে তোলার জন্য পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত এ নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ উজ জামান।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়। আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাতেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলে রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে।

জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রায়হানকে ধরে নিয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রায়হানকে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হয়। ওইদিন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার তৎকালীন বিডিআরের নায়েক মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন।

মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এর মধ্যে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া মঙ্গলবার সকালে পুলিশ লাইন থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে খুঁজছে পুলিশ। বাকি ছয়জন পুলিশ লাইনে রয়েছেন।

ময়নাতদন্তের পর গত রোববার বাদ এশা নগরের আখালিয়া জামে মসজিদে জানাজা হয় রায়হান উদ্দিনের। পরে আখালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রায়হান উদ্দিনের মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।


বিআলো/ইসরাত