ক্যাম্পাসে ফেরার অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসে ফেরার অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সিনথিয়া সুমি, বশেমুরবিপ্রবি: অদৃশ্য এক করোনা ভাইরাসের প্রকোপে স্থবির গোটা বিশ্ব। যার জন্য দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যা আহরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা ছিল, সেই মুহূর্তে আজ চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ। ঘরবন্দির একঘেয়েমি আর ভাল লাগছে না শিক্ষার্থীদের। তারা সুস্থ পৃথীবিতে আবার সেই চিরচেনা স্ব স্ব বিদ্যাপীঠে ফিরতে চায়।

দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনলাইন ক্লাস চললেও আশানরূপ ফলাফল নেই। তাত্বিক জ্ঞান কিছুটা মিটলেও ব্যবহারিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। ছুটিতে দুরন্তপনা শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়েছে ঘরকুনো। বাড়ছে হতাশা। প্রায় সবকিছু খুলে দিলেও বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাসে ফেরার প্রহর গুনছে প্রতিটা শিক্ষার্থী। 
কবে ফিরবে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

এমনই ক্যাম্পাসে ফিরতে অপেক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ভালবাসার ক্যাম্পাসে ফেরার আকুতি জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আজ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যার সিন্ধু ছেঁচে মুক্ত আহরণের প্রান্তকর চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা ছিল সেই মুহূর্তে আজ আমরা ঘরবন্দি। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সবটুকুই আজ প্রতিক্ষায়। সব কিছু  যেন থমকে গেছে। কতদিন দেখা হয়না প্রাণের ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের। মধ্যবিত্তদের স্বপ্নপূরণের এখনো যে রয়ে গেছে বাকি। পৃথিবী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক আর আমরা ফিরতে চাই স্বপ্নের রাবি ক্যাম্পাসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন,"করোনার এই ভয়াল থাবা না থাকলে আজ হয়তো টিএসসি হয়ে উঠতো হাজারো স্বপ্নবাজদের মিলনস্থল। কার্জনের সবুজ ঘাস, শহীদুল্লাহর পুকুর পাড়, কলাভবনের সামনের বটতলা আর এফবিএস এর সামনের সবুজ চত্ত্বর হয়ে উঠতো জ্ঞান অন্বেষণকারীদের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া হাজারো আড্ডার সাক্ষী।  প্রতিটি সকাল শুরু হতো লাইব্রেরীর সামনে রাখা সারি সারি ব্যাগের মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবতা আজ প্রতীক্ষায় রুপ নিয়েছে। অব্যক্ত মনের প্রার্থনা একটাই- সুস্থ হোক বসুমতী,  সুস্থ হোক বঙ্গ জননী।  হাজারো তরুণ তরুণীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠুক প্রিয় ক্যাম্পাস।

ক্লাসে ফেরার আকুতি জানিয়ে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী আশিক আহমেদ বলেন, ‘চিরচেনা সেই বিদ্যাপীঠ আর ভালবাসার মানুষগুলোকে দেখিনা অনেকদিন। কিন্তু আজ ঘরে বসে সোনালী অতীতগুলো মনে করা ছাড়া আর কিছু করার নেই আমাদের। প্রতিক্ষণেই হৃদয়ে একটা ভয় জাগ্রত করে, প্রিয়জনদের সাথে আবার দেখা হবে কিনা, ক্যাম্পাসে ফিরে ক্লাসে আবার সবাইকে পাবো কিনা, সেই রঙিন ও উৎসবমুখর দিন ফিরে পাবো কিনা। ঘরবন্দি আর কতদিন থাকা যায়। এখন সুদিনের অপেক্ষার প্রহর গুনছি। প্রার্থনা করি পৃথীবি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। সবাই সুস্থ থাকুক।"

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, "প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁর নিজ নিজ ক্যাম্পাসের প্রতি মায়াজালে আবদ্ধ থাকে। কিছু স্মৃতিকথাও থেকে যায়। একসাথে বন্ধুদের সাথে ক্লাসরুমে ক্লাস করা। ক্যাফেটেরিয়ায় আড্ডা দেওয়া। ঘুরতে যাওয়া, খেলাধূলা ও দুষ্টামি করা। সবমিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর। ঠিক আমারও একই অবস্থা। আগের মতো সেই আড্ডা, একসাথে ক্লাস করা হয়না। করোনায় জীবনকে সংকীর্ণতা করেছে। তবে এর মধ্য দিয়েও ফিরে যেতে চাই আমার প্রিয় ক্যাম্পাসটিতে।

কবে খুলবে ক্যাম্পাস শুধু সেই অপেক্ষায়। মনটা আজ বিচলিত।আগের মতো পরিবেশ ফিরে আসুক এই কামনা করি। শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত হোক ক্যাম্পাস। প্রাণ ফিরে পাক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু আগের মতো চলছে। তাই আশাবাদী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ত্বরান্বিত ও বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়া হোক"।

বিআলো/শিলি