করোনার টিকা এক বছরেই হতে পারে অকার্যকর

করোনার টিকা এক বছরেই হতে পারে অকার্যকর

নিউজ ডেস্ক: চীন থেকে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রায় দেড় বছর হতে চলল। এরই মধ্যে এ ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে ২৮ লাখেরও বেশি প্রাণ। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। সংক্রামক এ ভাইরাসটিকে ঠেকাতে রেকর্ডগতিতে বিজ্ঞানীদের নিবিড় গবেষণার পর একাধিক টিকা চলে এসেছে বাজারে।

কিন্তু এসব টিকার আয়ু মেরেকেটে আর এক বছর। একটি সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করেছেন এপিডিমিয়োলজিস্ট ও ভাইরোলজিস্টরা। তাদের আশঙ্কা, এক বছরেরও আগে অকেজো হয়ে পড়তে পারে কোভিড টিকার ‘ফার্স্ট জেনারেশন’। কারণ অবশ্যই ভাইরাসের ধরন পরিবর্তন।

তিনটি স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে সমীক্ষাটি হয়েছিল। তাতে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দ্রুতগতিতে নিজেদের বদলে ফেলছে করোনা ভাইরাস। এর নতুন ধরনগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চীনের উহানের প্রথম ভাইরাসটির থেকে
অনেক বেশি সংক্রামক। ভাইরাসটি এতই বদলে যাচ্ছে যে, বর্তমানে বাজারে থাকা টিকাগুলো আদৌ কতটা কার্যকরী সথাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ২৮টি দেশের ৭৭ জন বিজ্ঞানী।

এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, তাদের সন্দেহ, বর্তমান প্রতিষেধকগুলো আর এক বছর কাজ করবে। এক-তৃতীয়াংশের মতে, এ টিকার আয়ু বড়জোর ৯ মাস। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ যুক্ত রয়েছে ইয়েল, জন্স হপকিন্স, লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

অংশগ্রহণকারীদের ৮৮ শতাংশের অনুমান, বর্তমান টিকাগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অচিরেই করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন উপস্থিত হবে। এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো, গণটিকাদানের মাধ্যমে একসঙ্গে ভাইরাসের বর্তমান ধরনগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা। নয়তো বিবর্তনের মাধ্যমে এর নতুন নতুন ধরন তৈরি হতেই থাকবে।

কিন্তু সমস্যা হলো, বিশ্বজুড়ে একসঙ্গে গণটিকাদানের কোনো সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া টিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চরম বৈষম্য। একদিকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগকে টিকা দিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ডে মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশকেও টিকা দেওয়া যায়নি।

আবার এখনো এক ডোজও টিকা পায়নি অন্তত ৩৬টি দেশ। এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করছে। গণটিকাদানে পিছিয়ে রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোও। দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনের মতো দেশে কোভিড টিকা কোভিশিল্ড পাঠাচ্ছে ভারত।

আবার ভারত থেকে এ টিকার তিন কোটি ডোজ কিনেছে বাংলাদেশ। যার প্রথম দফার চালান হাতে পেলেও বাকি চালান এখনো ভারত পাঠাচ্ছে না। তার ওপর সম্প্রতি ভারত সরকার টিকা রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে দেশগুলো।

বিআলো/শিলি