করোনায় ব্যাংকিং সেক্টর: টিকিয়া থাকাই হইবে চরম স্বার্থকতা (পর্ব-২)

করোনায় ব্যাংকিং সেক্টর: টিকিয়া থাকাই হইবে চরম স্বার্থকতা (পর্ব-২)

শেখ মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন (এভিপি এন্ড ম্যানেজার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিঃ) : বাংলাদেশে করোনা এখনও  মধ্যগগনে তার তাপদাহ ছড়াতে শুরু করেনি কিন্ত রাজনীতি এবং অর্থনীতিকে ইতিমধ্যে পশ্চিমাকাশে ঠেলে দিয়েছে। তারই এক সরাসরি শিকার-ব্যাংকিং সেক্টর। নয়-ছয় এর প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরে কি হবে এবং নীতিনির্ধারকদের কি পদক্ষেপ নিতে হবে-সেটা যখন মাত্র পর্যবেক্ষণ পর্যায়ে, ঠিক তখনই করোনার ভয়াবহ ছোবল পুরো সেক্টরকে শুধু থামিয়েই দেয়নি, পিছু হটতে বাধ্য করছে। করোনার অনির্দিষ্ট, অনিশ্চিত ও অননুমেয় আক্রমনের মুখে সরকার থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা - প্রতি মুহুর্তে তাদের নীতি ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে আর ব্যাংকগুলো আগে সেই পরিবর্তিত নিয়ম নীতি বাস্তবায়ন করে, পরে তার প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে।

ব্যাংকিং সেক্টরে এপ্রিল মাসের পরিচালন মুনাফায় বড় পতন ঘটেছে, যা কমবেশি  পূর্ববর্তী মাসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ । এই পতনের কতটুকু নয়-ছয় এর প্রভাব আর কতটুকু করোনার প্রভাব তা যাচাই বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বেই আবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক সুদ স্থগিত রাখার এক সার্কুলারে বানিজ্যিক ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের কপালের ভাঁজ আর কয়েক পরত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় উপার্জনহীন এই দিনগুলোতে ব্যাংকগুলো ব্যতিব্যস্ত থাকছে খরচের লাগাম নিয়ন্ত্রনে রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টায়। 

সাধারণ ছুটিতে সেবার দায়িত্বে থাকা ব্যাংকারদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশিত প্রণোদনার হিসেব কষতেই যখন গলদঘর্ম, তখন মাথার উপর ঘুরছে করোনায় আক্রান্তদের কিংবা মৃতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বড় অংকের প্রভিশন। পোশাক খাতসহ অন্যান্য গ্রাহকদের ক্রমাগত চাপ সত্ত্বেও সীমিত ব্যাংকিং এর কারণে কমবেশি পঞ্চাশ শতাংশ শাখা বন্ধ রেখে ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা অধিকাংশ সময় ব্যয় করছেন ভিডিও কনফারেন্সে তাদের করণীয় নিয়ে। বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর চিন্তাভাবনা ও তারা শুরু করে দিয়েছেন। এই ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত গড়াতে পারে ছাঁটাই প্রক্রিয়া পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে 'টিকিয়া থাকার' চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র ব্যাংকের নয়, ব্যাংকের শীর্ষনির্বাহী থেকে শুরু করে সদ্য যোগদান করা শিক্ষানবিশ অফিসার পর্যন্ত। 

তবে পরিশেষে, আশার জায়গা একটাই-দেশের সামগ্রিক দায়িত্ব এমন একজনের হাতে-যিনি একজন বিদগ্ধ রাজনীতিবিদ ও সুদক্ষ নীতিনির্ধারক। কখন কোথায় কি পদক্ষেপ নিতে হবে-সে বিষয়ে তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও সুবিবেচক। দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রভাব তিনি ভালই জানেন এবং সময়মত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তিনিই গ্রহন করবেন। শুধু অপেক্ষা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা আর সে পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য্য ।