করোনা নিয়ে কদমতলী থানা ওসি'র উদ্যোগ, লক ডাউন-দুই এলাকায় চার'জন সনাক্ত

করোনা নিয়ে কদমতলী থানা ওসি'র উদ্যোগ, লক ডাউন-দুই এলাকায় চার'জন সনাক্ত

শেখ রাজিয়া সুলতানাঃ বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এ ভাইরাস শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকি নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে ৷ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে একের পর এক নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ৷ বড় বড় সব বৈশ্বিক আয়োজন এবং স্কুল, কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমে আসছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ৷ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার কারণে লোকসানে পড়ছে বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো।

করোনা আক্রান্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশ সহনশীলতার মধ্যে থেকেও যেন হটাৎ করে আক্রান্ত রুগী কিছুটা বাড়তে শুরু করছে। করোনা যেন মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে, সেদিক লক্ষ্য রেখে দেশ ও জনগণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে সরকার । এ লক্ষে ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে । নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম বাস্তবায়নে  প্রাণের ঝুকি নিয়ে জোরেশোরে নেমেছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কদলতলী থানা । এ থানার অধীন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন মিল-কারখানা ও বহু ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে । করোনা ভাইরাসের কারণে সব বন্ধ । খুব অল্প সময়ের জন্য কিছু দোকানপাট ব্যাবসায়ীরা খুলে  থাকলেও অনেকে আর্থিক অভাবঅনটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারছে না। ঘরবন্দী মানুষের মধ্যে হতদরিদ্রের যেন দুঃখের শেষ নেই। 

কারণ করোনা এলাকাতে ঢুকেছে। প্রশাসনিকভাবে এলাকায় তাঁর উদ্দোগ প্রসঙ্গে আলাপকালে কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব জামাল উদ্দিন মীর বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপকে ইতিমধ্যে মহামারী হিসেবে জেনেছে বিশ্ববাসী। আমাদের নিজেকে ও দেশকে রক্ষায় প্রথমেই সর্ব শক্তিমান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা, সবাই সচেতনতা তৈরি করে মেনে চলাই সর্বোত্তম, পাশাপাশি হোম কোয়ারেন্টাইন নিয়ম মেনে চলতে হবে। 

তিনি বলেন, শনিরআখড়া কদমতলী থানা আওতাধীন চার'জন করোনা ভাইরাস রুগী সনাক্ত হয়েছে, দু'জন পাটেরবাগ ও দু'জন পলাশপুর। এ পরিস্থিতিতে সেখানে পুরো কল ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এবং সেখানে সবসময় আমরা নজরদারিতে রেখেছি পুরা এলাকার লোকজনদের। 

থানার ভিতরে প্রবেশ ও নিজেদের সতর্ক বজায় রাখা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, থানার মেইন গেইটের সামনে আছে পানির ব্যবস্থা, হ্যান্ড ওয়াশ ও ভাইরাসমুক্ত স্প্রে মেশিন, হাত ধুয়া ছাড়াও স্প্রে করে তবেই থানার ভিতরে সবাই প্রবেশ করে। কারণ থানায় আমরা প্রশাসনের লোক ছাড়া সবসময় বিভিন্ন ধরনের লোক আসাযাওয়া করে এজন্য এ উদ্যোগ নিয়েছি।

এলাকায় বাজার মনিটরিং বিষয় জানতে চাইলে অফিসার ইনচার্জ  বলেন, কাঁচাবাজারে যাওয়ার জন্য আমরা ওয়ান-ওয়ে রোড তৈরি করেছি দূরত্ব বজায় রেখে যেন লোকজন আসাযাওয়া করতে পারে। এবং সেখানে আমাদের লোকেরা খেয়াল রাখে এজন্যই যে, কোন ব্যাবসায়ী যেন ক্রেতাদের কাছ থেকে বাজারে জিনিসপত্রের স্বভাবিক মূল্যের অধিক না নেয় এবং লোকজন বাজারে গিয়ে হয়রানি না হয়। 

অসহায় গরীব দিনমজুরিদে থানা থেকে ত্রাণের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না? এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমাদের কাছে যখনই কেউ খাদ্য সমস্যার কথা জানায় সাথে সাথে সেই ব্যক্তির বাসায় 'করোনা' সতর্কতা বজায় রেখে ত্রাণসামগ্রী পৌছিয়ে দিচ্ছি। যেন কোনো অভাবি লোক ও তাঁর পরিবার অনাহারে না থাকে।

কদমতলী থানা আওতায় প্রতিটা এলাকাতে করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর ও হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার জন্য নিয়মিত মাইকিং চলছে থানা কর্তৃপক্ষ থেকে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীরে'র কঠোর নির্দেশনা, করোনা ভাইরাসে  ক্ষতিগ্রস্ত সারাবিশ্ব, বাংলাদেশেও আমরা সবাই 'করোনা' নিয়ে খুব আতঙ্কিত । জামাল উদ্দিন মীর বলেন, এই দুর্যোগে 'করোনা' নিয়ে যদি কেউ রাজনীতি বা কারোর সাথে অপরাধ করে, তাহলে তাঁকে কোনরকম ছাড় দেয়া হবে না। আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করি যেন, করোনা ভাইরাস থেকে বিশ্বের সকল মানবজাতিে সুরক্ষিত রাখেন।