ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ : ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা দায়ের

ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ : ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা দায়ের

চঞ্চল দাশগুপ্ত, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহাড়ছড়া এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে একদিনে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত দুজন হলেন নুর মোহাম্মদ টেকনাফ সদরের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা এবং মো. আজিজ একই ইউনিয়নের ডেইল পাড়ার বাসিন্দা। এ নিয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা দায়ের করা হলো। এর মধ্যে ৮টি কক্সবাজার আদালতে এবং অপরটি চট্টগ্রাম আদালতে।


সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ- ৩) হেলাল উদ্দীনের আদালতে টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ ও মো. আজিজ নামের দুই ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে এই দুই মামলা দায়ের করা হয়। নিহত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী লায়লা বেগম ও মো. আজিজের মা হালিমা খাতুন বাদী হয়ে এই দুই মামলার আবেদন করেন। দুটি মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী নূর হোসেন নাহিদ মো. মোস্তফা জানান, ফৌজদারি মামলার এজাহার দুটি আমলে নিয়েছেন আদালত এবং ওই ঘটনা সংক্রান্ত অন্য মামলা হয়েছিলো কিনা নিহত দু’জনের ময়নাতদন্ত হয়েছিলো কি না তা আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিহত নূর মোহাম্মদের মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৯ মার্চ বীজ ও সার আনতে গেলে কৃষি অফিস থেকে কৃষি সরঞ্জাম ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন ওসি প্রদীপসহ অন্যরা। না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে মারা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে বিভিন্নভাবে যোগাড় করে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু ২১ মার্চ রাতে নুর মোহাম্মদকে কয়েকজন পুলিশ তুলে ঝাউবাগানে নিয়ে গিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। অপরদিকে নিহত মো. আজিজের মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর টেকনাফ থানার একদল পুলিশ মো. আজিজ, নুর হাসান ও আবুল খায়ের নামের তিন জনকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে মো. আজিজের পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন ওসি প্রদীপসহ অন্যরা। না দিলে আজিজকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে নিরুপায় হয়ে বিভিন্নভাবে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পুলিশকে দেয় আজিজের পরিবার। কিন্তু ১৯ অক্টোবর রাতে টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া নদীঘাট এলাকায় আজিজকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ। এসময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ওই ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় রয়েছেন। 

বিআলো/ইসরাত