জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ কাউন্সিলর হুমায়ূন রশিদ জনি

জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ কাউন্সিলর হুমায়ূন রশিদ জনি

এসএম জহিরুল ইসলামঃমানবসমাজে একজন মানুষ যদি তার সততা, সদিচ্ছা ও সাহসিকতার যথাযথ ব্যবহার এবং প্রয়োগ করে সমাজ, দেশ ও জাতিকে কিছু উপহার দিতে চান তবে তা অনায়াসেই দিতে পারেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ হুমায়ূন রশিদ জনি তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।


মোঃ হুমায়ূন রশিদ জনি ৫ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৭৬ শেওড়াপাড়াস্থ এক স্বনামধন্য মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা অলি মিয়া বৃহত্তর মিরপুরের এক প্রতিথযশা নাগরিক। তিনি একজন সৎ, সাধারণ গর্বিত পিতার সন্তান। পিতার প্রদর্শিত আদর্শ ও শিক্ষা-দীক্ষায় দীক্ষিত এবং অনুপ্রাণিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রথমে নিজ পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর একজন সৎ ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে দেশে-বিদেশে সফলতা অর্জন করেন।


তিনি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি  পরবর্তীতে ১৯৯৯ং সালে কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ২০০২ সালে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ হতে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী মোল্লা পরিবারের মেয়ে ইভানার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হুমায়ূন রশিদ জনি। তার শ্বশুর মোল্লা পরিবারের বড় সন্তান এখলাস উদ্দিন মোল্লা। পারিবারিক জীবনে হুমায়ূন রশিদ জনি ২ ছেলে ১ কন্যা সন্তানের জনক।


হুমায়ূন রশিদ জনি একজন নির্ভীক সমাজসেবক। তিনি এই পর্যন্ত বহু সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং পথশিশুদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিসিডিএফ নামক পথশিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এই স্কুলে অগণিত পথশিশু লেখাপড়া করে শিক্ষার আলো পাচ্ছে। 
যুব সমাজের উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম এবং অ্যাডভেঞ্চার সোসাইটি’ গঠন করেন। আরও অনেক উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন নিজেকে।


ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানার প্রসারিত করার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে বিদেশে আরও ব্যাপকতা ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিভিন্ন পন্থা এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবে রূপ দান করেছিলেন।


কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে কি কি কাজ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের আলো’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কাউন্সিলর হুমায়ূন রশিদ জনি জানান
রাজধানী ঢাকার শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, সেনপাড়ার জন্য কিছু করার মানসিকতা নিয়েই ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হয়েছেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসিতাকে অবজ্ঞা করে জনসেবার মহৎ এক ব্রত এবং লক্ষ্য নিয়ে, সমাজ ও নগরবাসীর কল্যাণার্থে নিজেকে উৎসর্গও করেছেন তিনি।ভদ্র, শিক্ষিত, জনপ্রিয় এই মানুষটির আচার-আচরণ, কথাবার্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মানুষের দৃষ্টি ও হৃদয়কে জয় করেছেন।


মোঃ হুমায়ূন রশিদ জনি ২০০০ সনে ১৪নং ওয়ার্ড ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের অর্থ সম্পাদক, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। অদ্যবধি তিনি যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন।


এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর জায়গাগুলো উচ্ছেদ অভিযানের  সময় রংবাজ, মস্তানসহ বিভিন্ন দলীয় পরিবহন মালিক, শ্রমিক বা  কোন মতলববাজ মহলের কাছে নত স্বীকার বা আপোস করেননি তিনি। কোন প্রকার ভয়ভীতি ও অনুরোধের প্রতি কর্ণপাত না করে নিজ জীবনকে বিপন্ন করে অত্যন্ত শান্ত মস্তিষ্কে সাহসিকতার সঙ্গে একজন কাউন্সিলর হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছিলেন তিনি। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, সঠিক ও সুচিন্তিত গঠনমূলক সদিচ্ছা এবং উদ্যোগ থাকলে, জনগণের কল্যাণে যে কোন কঠিন ও দুরূহ কাজ সম্পন্ন করা যায়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ ও  নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা।


কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি ফুটপাথ উদ্ধার করা, ফুটপাথের উন্নয়ন, স্ট্রিট বাতির ব্যাপক উন্নয়ন, রাস্তাঘাট পুর্নর্র্নিমাণ, সংস্কারকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন তথা বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের বৈপ্লবিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসেছিলেন। 

কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কি প্রশ্ন করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো- আমি জনগণের নিরষ্কুশ আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এই এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্টসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমি ৯৫ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি।


শেওড়াপাড়া থেকে পীরেরবাগ কল্যাণপুর ৩০ ফিট রাস্তা সম্প্রসারণ করেছি। যাহা এতদাঞ্চলের পনের হাজার পরিবার প্রায় ২ লক্ষ মানুষের উন্নত যোগাযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
অত্র এলাকার ৪০ ভাগ রাস্তা ৮-১০ হতে ১৬/২০ ফিট প্রশস্থ করা হয়েছে। বাকিগুলো চলমান রয়েছে।
এই এলাকার উল্লেখযোগ্য বড় সমস্যা পানির সমস্যা। পানির জন্য এই এলাকার মানুষের হাহাকার ছিলো। বর্তমানে পানির সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডে পানির তীব্র সংকট বিরাজমান ছিলো। আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ৮টি নতুন পানির পাম্প স্থাপন করেছি।

জনগণের সার্বিক সহেযাগিতা এবং ওয়াসার আন্তরিকতার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এখন এই এলাকায় পানির সমস্যা নাই বললেই চলে।শেওড়া পাড়া ২টি, কাজী পাড়ায় ৩ পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে, পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ২টি, পূর্ব কাজীপাড়া ১টি পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এই সকল পানির লাইন পরিষ্কার, পরিবর্ধনের ফলে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক জনগণ এর সুফল ভোগ করছে। 

পানির পাম্প স্থাপনের জন্য নির্ধারিত জায়গা ক্রয় করা হলেও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় উক্ত স্থানে পানির পাম্প স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে আমার স্ত্রীর নামে কেনা পার্শ্ববর্তী স্থানে ৪ কাঠা জায়গা থেকে দেড় কাঠা জায়গা পানির পাম্পের জন্য ছেড়ে দিয়েছি।


মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে এলাকাবাসী তথা যুব সমাজকে রক্ষায় আপনি কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ইতিমধ্যে মাদকের সকল স্পটগুলো আমরা ভেঙে দিয়েছে। প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকের সাথে কারো সম্পৃক্ততা থাকলে তার বিষয়ে কোন ছাড় নাই। আমাদের মনিটরিং গ্রুপ এই বিষয়ে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।


বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা তালতলা পুরান এয়ারপোর্টের ভিতর একটি এসটিএস স্থাপন করেছি। প্রায় ৬০জন পরিচ্ছন্নকর্মী আছে আমার এখানে। যারা নিয়মিত কাজ করছে। তবে ৫ লক্ষ জনগণের জন্য কমপক্ষে ৩০০ পরিচ্ছন্নকর্মী প্রয়োজন।
অত্র এলাকাকে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদির (সড়কবাতি, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি) নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব সরঞ্জামাদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল রাখা হবে।


৩০০ জন কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় যারা সিভিল ডিভেন্সে’র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাৎক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যারা স্বক্ষমতা রাখেন।
মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন বিকেলে মশার ওষুধ ছিঁটানো হয়। মশক নিধনের জন্য আমার একটি টিম রয়েছে। প্রত্যেক দিন মশার ঔষধ দেওয়া হচ্ছে। আমার ওয়ার্ডে ১২টি মেশিন আছে এবং প্রতিদিনি মশার ঔষধ দেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী ১১ জন ও অস্থায়ী ১০ জন মশককর্মী কাজ করছে।


ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন দুই বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৫ হাজার।  সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২টি, মাদরাসা ১টি। ওয়ার্ডে জনসংখ্যার ৫৪ ভাগ নারী এবং ৪৬ ভাগ পুরুষ।
সবুজ পৃথিবী সম্পর্কে প্রশ্ন করলে কাউন্সিলর হুমায়ূন রশিদ জনি বলেন, আমার এখানে বৃক্ষরোপণ করার কোন জায়গা নেই। তারপরও আমরা বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ ও সবুজ পৃথিবী রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেছি।


প্রয়োজনে ছাদে বাগান করার পরামর্শ দিয়েছি। ছাদে কিভাবে বাগান করতে হয়, কোথায় কি গাছ লাগাতে হবে সে বিষয়ে আমাদের একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম রয়েছে। একজন সেবক হিসেবে রাস্তায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের সময় একজন সাদামাটা সাধারণ মানুষের মতোই জনগণ ও পথচারীদের সঙ্গে বাক্যালাপ ও আলাপ-আলোচনা করেন। তিনি  যে একজন সংস্কারক পরিকল্পনাবিদ, জনগণের সাধারণ সেবক হয়েছিলেন এটা তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ কথাবার্তার মধ্য দিয়েই প্রস্ফুটিত হয়। 


অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করে এই এলাকার জনগণের সেবার একটি বিভিন্ন বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। স্বার্থান্বেষী মহলের বিভিন্ন অসন্তোষ, নাখোশকে তিনি তোয়াক্কা না করে নিজের প্রণীত ও গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মসূচিকে বাস্তবায়নের কঠোর নিয়মনীতি, আইন-কানুনকে সংরক্ষণ ও অনুসরণ করে তিনি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডকে একটি সুন্দর, স্বচ্ছ, মানসম্মত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থার মধ্যে সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন সাধনের মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক তখনই একটি স্বার্থন্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। ভূলুণ্ঠিত করতে চায় তার সমস্ত অর্জনকে।


ভবিষ্যতে জনকল্যাণে কি কি কাজ করার পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার এখানে কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, কবরস্থানের কোন জায়গা নাই। শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও সেনপাড়ায় ৩টি খেলার মাঠ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহান আল্লাহ সহায় হলে অচিরেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।