জীবাণুর কারণে সাদাস্রাব আপনার করণীয়

জীবাণুর কারণে সাদাস্রাব আপনার করণীয়

ডা. দিদারুল আহসান: সাধারণত গনোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, নিউমোকক্কাস, ইকোলাই, ট্রাইকোমোনাস, ক্যানডিডা আলবিক্যানস ইত্যাদি জীবাণুর আক্রমণে শ্বেতস্রাব ঘটতে থাকে। ফলে গনোকক্কাস এবং ট্রাইকোমোনাস থাকলে যৌনমিলনের সময় এক দেহ থেকে আরেক দেহে জীবাণুগুলো সংক্রমিত হয়। এ কারণে এ দুই সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই চিকিৎসা চলতে থাকে এক সঙ্গে। নইলে চিকিৎসা সুষ্ঠু হলেও তা বিফলে যেতে পারে।

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা : অনেকের বিশ্বাস, শ্বেতস্রাব না সারলে স্বাস্থ্য ভালো হবে না। তারা মনে করেন, পুরুষের বীর্যস্খলের মতো এটাও একটা স্খলন এবং সব সময় তা হতে থাকায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। এটা নিতান্তই ভ্রান্ত ধারণা। কারণ চিকিৎসাশাস্ত্রে বলা হয়, লিউকোরিয়া কোনো রোগ নয়, লক্ষণমাত্র। আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রে যখন পুরুষের বীর্যস্খলনই ক্ষতিকর কিছু নয়, তখন নারীর শ্বেতস্রাব (যা বীর্যস্খলন জাতীয় কিছু নয়) চলতে থাকা শারীরিক দুর্বলতার কারণ- এটা একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা।

চিকিৎসা : বেশিরভাগ রোগীই গৃহচিকিৎসকের কাছ থেকে প্রথমে এ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে থাকেন। রোগ পুরনো হলে সাধারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুব সামান্যই উপকার হয়। শরীরের সাধারণ উন্নতিবিধানের জন্যও ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্বেতস্রাবের কারণ যখন স্ত্রী জননেন্দ্রিয়ে গভীরভাবে স্থাপিত নয়, কেবল তখনই এসব ওষুধ প্রয়োগে উপকার হয়, নইলে নয়। যোনিপথে শ্বেতস্রাব হলো যাবতীয় স্ত্রীরোগের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি রোগ। এ কারণেই এ রোগ নির্মূলে সুচিকিৎসা প্রয়োজন। নইলে এখান থেকে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ
সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আল-রাজি হাসপাতাল (২য় তলা), ফার্মগেট, ঢাকা।
০১৭১৫ ৬১৬ ২০০
০১৮১৯ ২১৮ ৩৭৮