ঝুলে আছে ৬ হাজার ৩৬০ চিকিৎসক নিয়োগ

ঝুলে আছে ৬ হাজার ৩৬০ চিকিৎসক নিয়োগ
ফাইল ছবি

উৎপল দাশগুপ্ত :

                 করোনা বাড়লেও ঝুলে আছে ৬ হাজার ৩৬০ চিকিৎসক নিয়োগ
                 ** করোনা চিকিৎসায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট
                  ** নিয়োগ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ
                  ** নিযোগ দিয়ে করোনা মোকাবিলার আহ্বান সংশ্লিষ্টদের

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে  মোট ১৩ হাজার ১৫২ জনকে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৯ সালে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৭৯২ চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়। গতবছর করোনা মহামারি ভয়াবহ হয়ে উঠলে দ্বিতীয় দফায় আরো ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়।  উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দুইধাপে মোট ৬ হাজার ৭৯২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর করোনা পরিস্থিতির অবনতিসহ চিকিৎসাসেবায় নানা সংকট সৃষ্টি হলেও ঝুলে আছে ৬ হাজার ৩৬০ চিকিৎসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া। 

এদিকে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনাকালে ডাক্তার-নার্সরা দেড় বছর ধরে দিন-রাত কাজ করছেন। অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন। তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় আরো নতুন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করা হবে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর চিকিৎসকদের ঝুলে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে ৬ হাজার ৩৬০ চিকিৎসকের নিয়োগের বিষয়ে কোনো সুরাহা না করেই ৪২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নেওয়ার প্রক্রিয়া এই সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছেন ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের চিকিৎসকরা। 

এই চিকিৎসকদের অভিযোগ, ৩৯তম বিসিএস অনেক আগের, তাই এদের নিয়োগ দেওয়া ভালো হবে না বলে একটি মহল থেকে কোটারীস্বার্থে প্রচারণা চালানো হচেছ। এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, ৩৯তম বিসিএসের পর ৪০ ও ৪১তম সাধারণ বিসিএস অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই দুই বিসিএসের পরীক্ষা প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই চিকিৎসক নিয়োগে ৪২তম বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়। প্রিলিমিনারি শেষে এই বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষা চলছে। করোনা পরিস্থিতিতে এখন বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ গতবছর পর্যন্ত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৯২ চিকিৎসক নিয়োগের পর আর কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে ৩৯তম আগের কিভাবে হয়। তাদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষাসহ সকল প্রক্রিযা সম্পূর্ণ করে যারা নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরো চিকিৎসক নেওয়া যেতেই পারে। এ ক্ষেত্রে ৩৯তম বিসিএসের চিকিৎসকদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা অমানবিক।

অন্যদিকে ৪২তম বিসিএসে অংশে নেওয়াদের দাবি, এই বিসিএস থেকে নিয়োগ দেওয়া হলে সিনিয়র-জুনিয়রসহ সবার সুযোগের সমতা থাকবে। 
গতবছরের তুলনায় চলতিবছর করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার সংক্রমণে সর্ব্বোচ্চ ২৩০ জন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশে। পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে সর্ব্বোচ্চ প্রায় ৩২ শতাংশে। পাশাপাশি করোনা রোগীর চিকিৎসায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে চরম চিকিৎসক সংকট চলছে। করোনা মোকাবিলায় সরকারকে বাধ্য হয়ে মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের সম্প্রতি জেলা-উপজেলায় গণবদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে আলোচনায় আসায় বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। অর্থাৎ চিকিৎসক সংকটে করোনা চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি এখন দৃশ্যমান।
করোনা ও চিকিৎসক সংকটের সার্বিক পরিস্থিতিতে ৩৯তম বিসিএসের চিকিৎসকদের নিয়োগ দিয়ে সহজেই করোনা মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ.বি.এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা চিকিৎসায় ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ সেই চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি। দেশের জ্যেষ্ঠ ও কৃতী চিকিৎসকের এই মন্তব্য ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। 

বি আলো / মুন্নী