ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি জমার শেষ সময় আগামীকাল

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি জমার শেষ সময় আগামীকাল

কাঞ্চন কুমার দে: সম্মেলনের দীর্ঘদিন পার হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। যদিও সম্মেলন শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিলো। 


জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ৩০ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেওয়ার জন্য সর্বশেষ নির্দেশ দেন।  


গত বছরের ৩০ নভেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়াম লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সম্মেলনে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন প্রবীণ নেতা শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হন বর্ষীয়ান নেতা আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ মো. হুমায়ুন কবীর। সম্মেলন থেকে দুই মহানগরের সভাপতিকে ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে দলীয় সভাপতির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ১৫ দিনের স্থলে ৯ মাসের বেশি সময় পার হলেও আজও কমিটির দেখা মেলেনি। যদিও কারণ হিসেবে মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবকে দায়ী করা হয়। 


অথচ ব্যতিক্রম ও অভাবনীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতো তারা করোনাকালের আগেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন। কিন্তু মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তারা আজ পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে পারবেন কি না তা অবশ্য সময়েই বলে দিবে।


মহানগর উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান জানান, সম্মেলনে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতো যথাসময়ে (যা করোনাকালের আগে) জমা দিয়েছি। তবে ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির চেয়ে কয়েকটা বেশি ৮২ জনের নাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এর থেকে সভানেত্রী যাকে রাখেন বা বাদ দেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, কমিটির তালিকা প্রণয়নের ব্যাপারে সভানেত্রীর নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। কোনো কাউন্সিলর এবং বিতর্কিতদের কমিটিতে স্থান দেই নাই। তিনি আরও বলেন, কমিটি করার ব্যাপারে আমি ও সাধারণ সম্পাদক ঐক্যমতের ভিত্তিতে করেছি। কমিটিতে নবীন-প্রবীণের যেমন সমন্বয় করা হয়েছে তেমনি দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা ত্যাগী এবং ১/১১-এর সময়ে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 


তবে যতদূর খবর পাওয়া গেছে তাতে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। কমিটি গঠনের ব্যাপারে সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীরের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক হলেও তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেননি। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর তা জমা দিতে পারবেন কি না তা অস্পষ্ট। এ ব্যাপারে সভাপতি মন্নাফী জানান, হয়তো ২/৩ দিন বেশি সময় লাগতে পারে। এ জন্য তিনি সরাসরি সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তবে আজ (গতকাল) হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে মিটিংয়ে বসবো, যদি আসেন। আর ফাইনাল করতে পারলে জমা দিতে পারবো।


এদিকে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে প্রচুর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ উপেক্ষা করে কাউন্সিলরদের স্থান দেওয়া হচ্ছে বলে জানাগেছে। তাছাড়া অতীতে বিতর্কিত ভূমিকা, ক্যাসিনো, কমিটি বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, চাঁদা ও টেন্ডারবাজরা কমিটিতে স্থান পেতে যাচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এর পেছনে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানাগেছে। 


এ সব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী সেল ফোনে স্পষ্ট করে বলেন, এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে অতীতে বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী যুবলীগের একজন, ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন কমিটিতে ঢুকানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 


অবৈধ বাণিজ্য ও কাউন্সিলরদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোবাইল ফোনে বলেন, কাউন্সিলরদের কমিটিতে রাখা হবে ঠিক, তবে বাণিজ্যের ব্যাপারে আল্লাহকে হাজির-নাজির করে বলতে পারি আমার দ্বারা কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হবে না। কমিটি গঠনে তার ছেলে রিয়াজুল কবীর রকি’র জড়িত থাকার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, এর কোনো সত্যতা নেই।