ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে জমছে নতুন নেতৃত্বের লড়াই

ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে জমছে নতুন নেতৃত্বের লড়াই

ইবনে ফরহাদ তুরাগ: সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়েছে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও আংশিক কদমতলী) আসন। সেই সাথে প্রবীণ এই সাংসদের মৃত্যুর পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে ঢাকা-৫ আসনের সম্ভাব্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রায় এক ডজন নেতা ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আগাম প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। 

তবে করোনা সঙ্কটের কারণে ঢাকা-৫ এলাকার আসন্ন উপ-নির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষণা না করা হলেও প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে ফেসবুক ও অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম- ইউটিউব, টুইটার, মেসেঞ্জার সহ তাদের পছন্দমত ওয়েবসাইটে প্রচার প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন খুব বেশি। এর মধ্যে ছবি, পোস্টার, ভিডিও, গ্রাফিকসসহ নানা উপায়ে তারা ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করাতে অসহায় মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ, বৃক্ষ রোপন সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। এসব কর্মসূচির আড়ালে থাকছে নিজেদের দলের প্রার্থীতা ঘোষণা।

প্রসঙ্গত, গত ৬ই মে হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। শূন্য আসনে সাধারণত নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে প্রথম দফায় ভোট করতে না পারায় ‘দৈব-দূর্বিপাকের কারণে’ সাংবিধানিকভাবে পরবর্তী ৯০ দিন সময় রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। তবে করোনা সঙ্কটের মধ্যেই এই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। যদিও এখনো প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার অকাল মৃত্যুতে শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি কর্মী-সমর্থক ও পরিবারের সদস্যরা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খাঁন মাসুদ ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি। 

এছাড়াও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক হারুন অর রশিদ (সিআইপি)। 

সেইসাথে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতির সাবেক সভাপতি আব্দুস সবুর আসুদের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িত। তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন। 

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নবীউল্লাহ নবী। জাসদের সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামও আছেন এ তালিকায়। তবে রাজনৈতিক ইমেজকে মুল্যায়ন করে আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা।

এলাকাবাসী জানায়, সবকিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর। ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত ঢাকা-৫ আসনে আগামী দিনের সরকার বিরোধীদের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সবাই আশায় বুক বেঁধে আছেন এবং প্রত্যেকেই নিজেকে ঢাকা-৫ আসনের যোগ্য হিসেবে মনে করছেন। 

কিন্তু এক সময় এই আসনটিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য বড় বাধা ছিলো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সরকার দলীয় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা। কারন, চারবার তিনি এই আসন থেকে জয় লাভ করেন। এখন তার আসনের হাল কে ধরবে? এই প্রশ্ন এখন জন সাধারণের মাঝে চলমান। ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও আংশিক কদমতলী) এলাকার গণমানুষের নেতা ছিলেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বলেছেন, হাবিবুর রহমান মোল্লা ছিলেন এলাকার গণমানুষের নেতা। প্রতিটি পরিবারের খবর তিনি রাখতেন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ছিলেন। সেই মোল্লার বিকল্প কে? পরিবার থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া হবে নাকি নতুন মুখ আসবে? এই আলোচনাই এখন সর্বত্র বিরাজমান।

এরই ধারাবাহিকতায়, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলের ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত পরপর ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এলাকার মানুষের সাথেও তার বোঝাপড়া ভালো। তাছাড়া এই আসনের প্রতিটি ইউনিট-ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজিয়ে বিএনপি-জামায়াত ও জঙ্গীদের প্রতিরোধের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের শান্তিতে বসবাসে তার অপ্রণী ভুমিকা রয়েছে বলেও জানান তার ঘনিষ্টজনেরা। তিনি জানান, তার প্রয়াত বাবার রাজনৈতিক আদর্শের কথা ভেবে তিনি রাজনীতি করেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ভালো। সে বিবেচনায় তিনি বলেন- মনোনয়ন নয়, বরং আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার দোয়া এবং সহযোগিতা নিয়ে প্রার্থী হতে চাই।

এদিকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও শহীদ শেখ কামালের স্ত্রী শহীদ সুলতানা কামালের ভাতিজি নেহরীন মোস্তফা দিশি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এবং তাকেই দলীয় ভাবে মনোনয়ন দেবে এমন প্রত্যাশাও রয়েছে ঢাকা-৫ এর জনগণের মাঝে। তাছাড়া পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক অবস্থান ও আপদে-বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে দল থেকে এই আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এমনটি প্রত্যাশা করেন নেহরীন মোস্তফা দিশি। মুঠোফোনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আলো-কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। ওই উন্নয়ন কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃত্ত করতে পারলে আমি নিজে কে ধন্য মনে করবো। এই এলাকার সাধারণ মানুষ আমাদের পরিবার থেকে যে সহযোগীতা পেয়েছে তা বিফলে যাবে না। সেইসাথে আমি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে মানুষের খুব কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের পরিবার থেকে কেউ এলে জনগণ সত্যিকার অর্থেই জনপ্রতিনিধি পাবে। শেখ পরিবারের এই সদস্য আরও জানান, আমি রাজনৈতিক পরিবেশে খুবই ভাগ্যবান যে আমি নোমিনেশন সংগ্রহের প্রতিযোগীতায় কিছু প্রতিপক্ষ পেয়েছি যারা সত্যিই খুবই সম্মানী ও যাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমাদের সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে যে আমরা একটা সম্মানজনক প্রতিযোগীতায় নেমেছি, প্রতিহিংসায় নয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তরুণ, সৎ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই ক্ষেত্রে আমি মনোনয়নের বিষয়ে দৃড় আশাবাদী। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমার লক্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা এবং আমাদের ঢাকা ৫ এলাকার মাটি ও মানুষের জীবন এবং জীবিকার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাওয়া । নেহরীন মোস্তফা দিশি নিজের পরিবারের যোগসূত্রর কথা জানিয়ে বলেন, "আমাদের পরিবার এবং পরিবারের সদস্যরা ঐতিহ্যগত ভাবে সব সময়ই সম্পৃক্ত ছিলেন ঢাকা ৫ এর উন্নয়নে এবং এই পরিবারের সদস্য হিসাবে আমি আমার দাদা, বাবা এবং চাচাদের মতোই মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই" । তিনি উল্লেখ করেন যে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আশা করেন এলাকার মানুষের আশীর্বাদে তিনি আওয়ামী লীগ এর মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারবেন ।

তবে এই আসনে নেতৃত্বের পরিবর্তন চাইছেন অনেকেই। সেক্ষত্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত সৈনিক ও ঢাকা-৫ এলাকার যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের আশা আকাঙ্খার কথা জেনেছি। সাধ্যমত তাদের সেবা করেছি। দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমি বারবার হামলা মামলা ও নানান নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। তার পরেও দলীয় কর্মকান্ড ও আন্দোলনে সাহসী ভুমিকা পালন করেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাÐ সদয় বিবেচনা করে আসন্ন উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আমার বিশাস। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে বিজয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদী।

মনোনয়ন এর দৌড়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামলীগ এর নেতা এই আসনটির জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পেতে চান। এর মধ্য নানা জল্পনা-কল্পনার অবশান ঘটিয়ে ঢাকা-৫ আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা হারুনর রশীদ মুন্না হতে চায় নৌকার মাঝি। প্রয়াত সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা এ নেতা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অসংখ্যবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজপথের কর্মসূচিতেও সর্বদাই সরব ছিলেন। বিরোধী দলে থাকাকালীন সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় দলকে সংগঠিত রেখে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি নিজে উপস্থিত থেকে বাস্তবায়ন করেছেন। তাই এবার উপ-নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে মূল্যায়ন করা হবে বলে আশাবাদী হারুনুর রশিদ মুন্না।

তিনি বলেন, আমরা খেলে ফিরতে চাই, ফাকা মাঠে গোল দিতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হব এবং মরহুম এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-০৫ আসনটি দুর্নীতিমুক্ত এড়িয়া হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি আরো বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক মরহুম এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপির শেষ জনসভার ভাষনকে মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হব এবং মরহুম এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-০৫ আসনটি দুর্নীতিমুক্ত এড়িয়া হিসেবে গড়ে তুলব।

এছাড়াও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-৫ আসনে আমাকে মনোনয়ন দিলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই নির্বাচনী এলাকার জনগনের স্বার্থে নিজেকে উজার করে দেবো। সেইসাথে জনগনের সেবা, রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নের জন্য আমি আগামী নির্বাচনে ঢাকা ৫ নির্বাচনী এলাকায় একজন জোড়ালোপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে মনে করি। আমি আমার ৩২ বছর রাজনৈতিক জীবনে কখনো রাজনৈতিক ছন্দ পতন হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের মাঝে সর্বদা কাজ করে গেছি, আগামীতেও কাজ করে যাব। আগামী উপ-নির্বাচনে জজননেত্রী শেখ হাসিনা, এই অ লের জনগনের উন্নয়নের জন্য একজন সৎ, শিক্ষিত ও ক্লীন ইমেজের লোককে এই অ লের মনোনয়ন প্রদান করবে এ ব্যপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। পাশাপাশি জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই মুহুর্তে করোনায় যে ক্লান্তিকাল চলতেছে, এই ক্লান্তিকালে সবাই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখবেন, নিরাপদ দুরত্বে থাকবেন, মাস্ক ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি ঢাকা-৫ এর জনগণের উদার্ত ভালবাসাটুকু চাই, এই জনগনের কাছে আমার আহবান। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন।

এশিয়ান গ্রুপ ও এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক হারুন অর রশিদ (সিআইপি) গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এলাকার অসহায় গরিব সম্বলহীন মানুষের সেবায় নিয়োজিত করে নিজেকে তাদের কাছে অত্যন্ত আপনজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে তাদের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথান সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। হারুন অর রশীদ জানান, সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। এবং আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করে অবশ্যই মনোনয়ন দেবেন। এরই ফলশ্রুতিতে ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য যে, মাতুয়াইল, ডেমরা, সারুলিয়া ও দনিয়া ইউনিয়ন এবং মোট ১৪টি সিটি ওয়ার্ড (৬০ নম্বর থেকে ৭০ নম্বর এবং ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর) নিয়ে ঢাকা-৫ আসন। ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষাধিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা। গত ৬ মে তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় জমছে নতুন নেতৃত্বের লড়াই।