ঢাকা-৫ আসনে নৌকা প্রার্থীর যোগ্য দাবিদার হারুনুর রশিদ মুন্না

ঢাকা-৫ আসনে নৌকা প্রার্থীর যোগ্য দাবিদার হারুনুর রশিদ মুন্না

ইবনে ফরহাদ তুরাগ: ৩০ বছরের দলীয় ত্যাগকে মূল্যায়ন করে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ঢাকা-৫ আসনের উপ নির্বাচনে নৌকা মনোয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা হারুনুর রশীদ মুন্নাই হতে যাচ্ছেন নৌকার মাঝি। এমনটাই বলছেন এ এলাকার জনসাধারন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়েছে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও আংশিক কদমতলী) আসন। সেই সাথে প্রবীণ এই সাংসদের মৃত্যুর পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই আসনের সম্ভাব্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এ সুবাদে শূন্য এই আসনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রায় এক ডজন নেতা ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আগাম প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

তবে করোনা সঙ্কটের কারণে ঢাকা-৫ এলাকার আসন্ন উপ-নির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষণা না করা হলেও প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে ফেসবুক ও অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম- ইউটিউব, টুইটার, মেসেঞ্জার সহ তাদের পছন্দমত ওয়েবসাইটে প্রচার প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন খুব বেশি। এছাড়া সড়কের দুইপাশে, বড় বড় বিলবোর্ড লাগিয়ে ছবি, পোস্টার গ্রাফিকসসহ নানা উপায়ে তারা ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করাতে অসহায় মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বৃক্ষ রোপন সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। এসব কর্মসূচির আড়ালে থাকছে নিজেদের দলের প্রার্থীতা ঘোষণা।

ঢাকা ৫ এলাকার সাধারন জনগন বলছেন, মনোনয়ন এর দৌড়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ এর নেতা এই আসনটির জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পেতে চান। এর মধ্য নানা জল্পনা-কল্পনার অবশান ঘটিয়ে ঢাকা-৫ আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা হারুনুর রশীদ মুন্না হচ্ছেন নৌকার মাঝি। প্রয়াত সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা এ নেতা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অসংখ্যবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজপথের কর্মসূচিতেও সর্বদাই সরব ছিলেন। বিরোধী দলে থাকাকালীন সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় দলকে সংগঠিত রেখে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি নিজে উপস্থিত থেকে বাস্তবায়ন করেছেন। তাই এবার উপ-নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে মূল্যায়ন করা হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তারা।

আসন্ন এই উপ- নির্বাচনকে ঘিরে এক সাক্ষাৎকারে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না দৈনিক বাংলাদেশের আলো-কে বলেন, আমরা খেলে ফিরতে চাই, ফাকা মাঠে গোল দিতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হব এবং মরহুম এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-০৫ আসনটি দুর্নীতিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক মরহুম এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপির তার শেষ জনসভার ভাষনকে মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হব এবং মরহুম এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-০৫ আসনটি দুর্নীতিমুক্ত এড়িয়া হিসেবে গড়ে তুলব।

তার রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবনের ইতিকথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর বৃহওর ডেমরা বর্তমানে যাএাবাড়ি থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ছিলাম দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতিক্ষা করেছি দলের জন্য। ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর আওয়ামীলীগ ঘোষিত হরতালে যাএাবাড়ি চৌরাস্তায় পিকেটিং করা কালে বিএনপি ফ্রিডমপাটির ক্যাডাররা আমাকে হত্যা করার উদ্যেশে রক্তাক্ত করে। তখন মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দেখতে হাসপাতালে যায়। ১৯৯৪ সালে নয় মাস জেলে থাকতে হয়েছে আমার। সেই সাথে আমার বিরুদ্ধে ৬৪টি মামলা, ৪৯দিন রিমান্ড সহ ৯মাস জেল খেটেছি আমি। বিবাহের ৩মাস পর জেলে গেলে সন্তান জন্ম নিলে সদ্য নবজাত সন্তানকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার। তবে, ইনশাআল্লাহ দল থেকে মনোনীত হলে মাননীয় সংসদের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করবো।

এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগ নেতা ও বিস্ময়কর রাজনীতিবিদ জনাব আব্দুল মালেক মুন্সি বলেন, ঢাকা ৫ আসনের গন-মানুষের নেতা হারুনুর রশীদ মুন্না ২০০৮ সালে নেত্রীর মুক্তি ত্বরান্বিত করতে তিনি যাএাবাড়িতে ২৯৮৭৭০ টি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে মহানগর কার্যালয়ে জমা দেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে হারুনুর রশীদ মুন্না ভাই কে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য ঢাকা-৫ এর অর্ন্তগত সকল ইউনিয়নের সভাপতি-সাঃসম্পাদক ও ঢাকা সিটি কর্পোঃ ওয়ার্ড কমিশনার ও সভাপতি-সাঃসম্পাদক বৃন্দ মুন্না’ ভাই কে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য মনোনয়ন বোর্ডকে রেজুলেশন করে অনুরোধ করেন। সে বিবেচনায় এবং তার ৩০ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগকে মূল্যায়ন করলে তিনিই আমাদের ঢাকা ৫ আসনের নৌকা প্রার্থীর যোগ্য দাবিদার।

উল্লেখ্য যে, মাতুয়াইল, ডেমরা, সারুলিয়া ও দনিয়া ইউনিয়ন এবং মোট ১৪টি সিটি ওয়ার্ড (৬০ নম্বর থেকে ৭০ নম্বর এবং ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর) নিয়ে ঢাকা-৫ আসন। ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষাধিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা। গত ৬ মে তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় জমছে নতুন নেতৃত্বের লড়াই।

বিআলো/ইসরাত