তিন কোটি রুপিতে কলকাতায় সাকিব মোস্তাফিজ রাজস্থানে

তিন কোটি রুপিতে কলকাতায় সাকিব মোস্তাফিজ রাজস্থানে

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন। কলকাতা নাইটরাইডার্সে আবারও সাকিব আল হাসান। এবারের আইপিএলের নিলামে শাহরুখ খানের দল তাকে কিনেছে ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে। বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের ভিত্তিমূল্য ছিল দুই কোটি রুপি।

বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় আইপিএলের নিলাম। বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে এক কোটি রুপিতে কিনেছে রাজস্থান রয়্যালস। তার ভিত্তিমূল্যই ছিল এক কোটি রুপি। এই বাঁ-হাতি পেসার আট দলের টি ২০ টুর্নামেন্ট আইপিএলে এর আগে খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে।

রাজস্থান রয়্যালসের ডিরেক্টর অব ক্রিকেটের দায়িত্বে রয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। রাজস্থানের শুভেচ্ছাদূত ও মেন্টর শেন ওয়ার্ন। বাংলাদেশের আরও তিন ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দল পাননি। অবিক্রীত রয়ে যান তারা। এবারের নিলামে ছিল ২৯২ জন ক্রিকেটারের নাম। তাদের মধ্যে ১৬৪ জন ভারতীয় এবং ১২৫ জন অভারতীয় ক্রিকেটার।

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হলেন ক্রিস মরিস। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডারকে রেকর্ড ১৬
কোটি ২৫ লাখ রুপিতে কিনে নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। তার ভিত্তিমূল্য ছিল ৭৫ লাখ রুপি। আইপিএলের ইতিহাসে মরিস এখন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়।

সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংকে ২০১৫ সালে ১৬ কোটি রুপিতে কিনেছিল দিল্লি। সেই রেকর্ড কাল ভেঙে দিলেন মরিস। ক্রিস মরিস, কাইল জেমিসন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ঝাই রিচার্ডসন ও কে গোথাম-এই পাঁচজনের পেছনে মোট খরচ হয়েছে ৬৮.৭৫ কোটি রুপি। আইপিএলের আট র্ফ্যাঞ্চাইজি নিলামে খেলোয়াড় কিনতে সব মিলিয়ে খরচ করেছে ১৪৫.৩ কোটি রুপি। এর মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ অর্থ খরচ হয়েছে উল্লিখিত পাঁচ খেলোয়াড়ের পেছনে।

আইপিএলে সাকিবের প্রথম দল ছিল কলকাতা নাইটরাইডার্স। ২০১১ থেকে টানা সাত মৌসুমের ছয়টিতে খেলেছিলেন তিনি শাহরুখ খানের দলে। কলকাতার দুটি শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন সাকিব। নিলামে সাকিবকে পাওয়ার জন্য লড়াই জমে উঠেছিল কলকাতা ও পাঞ্জাবের মধ্যে। দুই কোটি ভিত্তিমূল্যের অলরাউন্ডারকে প্রথম ডাকে কলকাতা। এরপর দ্বৈরথে যোগ দেয় পাঞ্জাব। সাকিবের পারিশ্রমিক তাতে ছাড়িয়ে যায় তিন কোটি।

পাঞ্জাবের বাজেট বাকি ছিল তখন ৫৩ কোটি ২০ লাখ রুপি। কলকাতার হাতে ছিল মাত্র ১০ কোটি ৭৫ রাখ রুপি। তবে কলকাতা ৩ কোটি ২০ লাখ ডাকার পর পিছু হটে পাঞ্জাব। এদিনের নিলাম থেকে সর্বোচ্চ মাত্র দুজন বিদেশি ক্রিকেটারের কোটা বাকি ছিল কলকাতার। সাকিব হলেন তাদের একজন। যিনি গেলবার এই আসরে খেলতে পারেননি নিষিদ্ধ থাকায়।

আইপিএলের নিলামে সাকিব প্রথম নাম লেখান ২০০৯ আসরে। সেবার কোনো র্ফ্যাঞ্চাইজি নেয়নি তাকে। ২০১১ আসরের আগে তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে দলে নেয় কলকাতা নাইটরাইডার্স।

২০১৪ আইপিএলের আগে কলকাতা তাকে ধরে রাখে ২ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে। কলকাতার হয়ে সাত মৌসুমে ছয়বার খেলার পর তাকে ছেড়ে দেয় দলটি। ২০১৮ আইপিএলের আগে তাকে দুই কোটি রুপিতে দলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। হায়দরাবাদের হয়ে খেলেন তিনি দুটি আসরে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিলেন না গত আসরের নিলামে। এবার নিলামে ফিরে ছাড়িয়ে গেলেন আগের পারিশ্রমিক।

নিলামে চার নম্বরে সেটে ছিলেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি গতবার খেলতে পারেননি ইনজুরির দরুন। সাকিব ছিলেন দুই নম্বরে সেটে। এছাড়াও নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় আগে থেকে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ মুহূর্তে নিলামে যুক্ত হন মুশফিকুর রহিম। দল পেলেও সাকিব এবারের আইপিএলে খেলতে পারবেন কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

এপ্রিলে শ্রীলংকা সফরে যেতে পারে বাংলাদেশ, মে মাসে লংকানরা আসতে পারে বাংলাদেশে। সূচি যদিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এবারের আইপিএল হতে পারে এপ্রিল-মে মাসে।

সাকিবের আগে নিলামে হইচই ফেলে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে ১৪ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সাকিবের মতো তারও ভিত্তিমূল্য ছিল দুই কোটি রুপি।

বিআলো/শিলি