তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির পূর্বাভাস

তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী দুদিন সিলেট বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও আসামসহ পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রকোপ কম থাকতে পারে। সোমবার ও মঙ্গলবারও বৃষ্টির প্রবণতা কম ছিল। এই পরিস্থিতিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যা কবলিত সিলেট-সুনামগঞ্জে এবং উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর জেলায় বড় আকারে বানের পানি যুক্ত হয়নি। জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। বৃষ্টি না থাকলে আগামী দুদিন অবশ্য উন্নতি দৃশ্যমান হতে পারে।

কিন্তু পানি নেমে আসায় একদিকে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা অন্যদিকে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হয়েছে। উত্তরের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি যুক্ত হচ্ছে পদ্মায়। এ কারণে রাজবাড়ি থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত পদ্মার দুইপাড়ের জেলা শরীয়তপুর, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুরেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) বলছে, ৪৮ ঘণ্টা পরে দেশের পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা ফের বেড়ে যেতে পারে। এই অবস্থা চলতি মাসের বাকি ক’দিনই থাকতে পারে। এমনটি হলে সিলেট-সুনামগঞ্জের পানি না নামতেই নতুন পানি এসে যুক্ত হবে। একই অবস্থা হতে পারে উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতেও। ফলে এই বন্যা অনেকটাই দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু প্রায় সারা দেশে সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির প্রবণতা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি স্বল্পসময়ের জন্য বিপদসীমা পার করে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এফএফডব্লিউসি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৯ জেলায় বন্যা বিস্তৃত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল। গত শনিবার শরীয়তপুরে পদ্মা বিপদসীমা পার করে। মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ির নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

এফএফডব্লিউসি জানায়, দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল বাড়ছে। এই মুহূর্তে দেশের ৮টি নদী ১৮ পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হচ্ছে-ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, ঘাগট, সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও সোমেশ্বরী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে যেতে পারে। এগুলোর মধ্যে একদিনে সুরমা সিলেট ও কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৯-১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। সর্বোচ্চ পরিমাণ ১১০ সেন্টিমিটার কমেছে খোয়াইর পানি বাল্লাহ পয়েন্টে।

গত ২৪ ঘণ্টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেকনাফে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ পঞ্চগড়ে ৫০ মিলিমিটার পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দেশের বাইরে ভারতের পূর্বাঞ্চলের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতেই ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জলপাইগুড়িতে হয়েছে ৫৭ আর অরুনাচলের পাসিঘাটে ৪৩ মিলিমিটার।

এদিকে সিলেট অঞ্চলে প্রবণতা কমলেও সপ্তাহজুড়েই দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বিএমডি। যদিও আগের তুলনায় এই বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কম থাকতে পারে। বৃষ্টির মাত্রা বেশি থাকতে পারে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। আরেক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়।

এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানান, সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হতে পারে। সব মিলিয়ে চারটি বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এগুলো হলো রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম।

বিআলো/শিলি