তামিম ভাইয়ের উইকেট নিতে চাই : মেহেদি হাসান

তামিম ভাইয়ের উইকেট নিতে চাই : মেহেদি হাসান

ক্রীড়াঙ্গনের আলো প্রতিবেদক: আসন্ন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট উপলক্ষ্যে প্লেয়ারদের ফিটনেস যাচাই করার জন্য বিপ টেস্টের আয়োজন করেছিলো বিসিবি। আর সেই টেস্টে সর্বোচ্চ ১৩.৬ স্কোর করে সবাই তাক লাগিয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি থেকে উঠে আসা তরুণ পেসার মেহেদি হাসান। গাজি গ্রুপ চট্টগ্রাম দলে ডাকও পেয়েছেন তিনি। লালমাই পাহাড়ের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠা মেহেদি মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াবস্থায় মা রাহেলা বেগমকে হারিয়েছেন। ছোটবেলা থেকে বাবা সফিকুর রহমানের স্নেহ ও ভালোবাসায়  বেড়ে উঠেছেন। মেহেদির এমন সুখবর শুনে ঠিকমত চোখে দেখতে না পারা বাবার মন অদৃশ্য আলোয় আলোকিত হলো।ছেলে প্রতিযোগিতামুলক ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ায় অদৃশ্য আলো ফিরে পেয়েছেন এমনটাই জানালেন তিনি। ছেলে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করুক  বাবা হিসেবে এটাই সবচেয়ে বড় চাওয়া উনার।

ক্রিকেটে নিজের উথ্থান নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের আলোর সাথে কথা বলেছেন মেহেদি হাসান। সাক্ষাতটি নিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের আলো প্রতিবেদক জাকির মামুন।
দর্শকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

প্রশ্নঃ সবাইকে ছাড়িয়ে বিপ টেস্টে সর্বোচ্চ স্কোর ১৩.৬ পেলেন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে গাজি গ্রুপ চট্টগ্রাম দলের  হয়ে ডাক পেলেন । সবমিলিয়ে অনুভুতিটা কেমন?

মেহেদিঃ অনেক ভালো লাগছে। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছে। প্রত্যেকটা প্লেয়ারই উন্নতি করে উপরের লেভেলে খেলতে চায়। আমিও তা চাই। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ইনশা আল্লাহ্ , আমি আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ভালো খেলার।

প্রশ্নঃ ক্রিকেটে  আসার গল্পটা যদি বলতেন।

মেহেদিঃ ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসা ছিলো। স্বপ্ন দেখতাম একদিন ক্রিকেটার হবো। স্বপ্নটাকে ভালোবেসে পুষতে শুরু করলাম। পাড়া মহল্লায় ক্রিকেট খেলে বেড়াতাম। একদিন লালমাই কলেজ মাঠে আমি বল করছিলাম। তখন আতিক স্যার আমার বোলিং দেখে আমাকে একাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলেন। সেই থেকে মুলযাত্রা শুরু। একাডেমিতে ভালো পারফর্ম করায় সুযোগ পেলাম অনূর্ধ্ব-১৭এ। এখানে সন্তোষজনক পারফর্ম করায় অনূর্ধ্ব-১৯ এ সুযোগ পাই।  এরপর প্রিমিয়ার লীগে ব্রাদার্স ও এনসিএলে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে খেলার সুযোগ পাই। বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পেলেও  ইঞ্জুরির কারণে মুল স্কোয়াড থেকে ছিটকে যাই।  এরপরেও মনোবল অটুট রেখে আবার ফিরে আসি। কঠোর পরিশ্রম আর রুটিনমাফিক অনুশীলন করে যাচ্ছি।

প্রশ্নঃ আজকের এই পর্যায়ে আসার ক্ষেত্রে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

মেহেদিঃ আতিক স্যারের অবদান অনেক বেশি। তিনি আমাকে সবসময় সবদিক থেকে সমর্থন ও সহায়তা করেছেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধু বান্ধব ও শুভাকাঙ্খীরা সবসময় সমর্থন দিয়ে গেছেন । সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মানেন কিংবা অনুকরণ করেন?

মেহেদিঃ  জেমস অ্যান্ডারসন ও মাশরাফি ভাইকে আমি অনুসরণ করি। তাদের লাইন ল্যান্থ আমার ভালো লাগে।

প্রশ্নঃ ইঞ্জুরির কারনে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে পারেন নাই। আক্ষেপটা কতটুকু? 

মেহেদিঃ আসলে আক্ষেপ তো থাকবেই। কিন্তু বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। খেলতে পারলে ভালো লাগতো ৷

প্রশ্নঃ বিপটেস্টে সর্বোচ্চ স্কোর করলেন৷ এমন ফলাফলের রহস্য কি?

মেহেদিঃ করোনাকালীন সময়ে আমি ফিটনেস নিয়ে অনেক খেটেছি ৷ প্রচুর রানিং করেছি৷লালমাই  পাহাড়ে উঠা নামা করেছি ৷ আমি নিজে নিজে  অনেক কাজ করেছি ফিট থাকার জন্য ৷ নিজেকে এমনটা বুঝাতে সমর্থ হয়েছি যে ফিটনেস ছাড়া খেলা সম্ভব না ৷ কষ্ট হলেও আর এই কথাটা সবসময় স্মরণ  করে দিন দিন করে ফিটনেস টা এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছি ৷

প্রশ্নঃ বোলিং এ আপনার প্রধান শক্তির   জায়গায় কোনটি?

মেহেদিঃ আমার বোলিংয়ের প্রধান অস্ত্র ইয়র্কার এবং অফ কাটার। ব্লক হোলে আমি ভালো বল করতে পারি।

প্রশ্নঃ দলে সুযোগ পেলে পেস বোলিং ইউনিটে মোস্তাফিজের সাথে জুটি গড়বেন।  সিনিয়র বোলার ও আইকন  হিসেবে তাঁর থেকে কি প্রত্যাশা করেন?

মেহেদিঃ মোস্তাফিজ ভাই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার। চেষ্টা করবো ভাইয়ের কথাগুলো মেনে চলতে। ভাই থেকে কৌশল ,নিয়ম-কানুন শিখতে আমি মুখিয়ে আছি।

প্রশ্নঃ টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত লক্ষ্য কি?

মেহেদিঃ ভালো পারফর্ম করা। যদি বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই তাহলে সেরা দশে থাকার ইচ্ছা।

প্রশ্নঃ কার উইকেটটি পেলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে?

মেহেদিঃ সিনিয়র ক্রিকেটারদের উইকেট পেলে ভালো লাগবে। তবে তামিম ভাইয়ের উইকেট নিতে পারলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে। তিনি দেশসেরা ওপেনার। উনার উইকেট টা আমার জন্য অনেক স্পেশাল হবে।

আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

মেহেদিঃ দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ও পাঠকদের ধন্যবাদ জানাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

বিআলো/ইসরাত