জ্বরে আক্রান্ত শনির আখড়ার ফেরিওয়ালা "এস. আই. শহীদুল্লাহ মামুন"

জ্বরে আক্রান্ত শনির আখড়ার ফেরিওয়ালা "এস. আই. শহীদুল্লাহ মামুন"

ইবনে ফরহাদ তুরাগ: না, বাস্তবে তিনি ফেরিওয়ালা নন। তবে করোনার এই মহামারীর সূচনা পর্ব থেকেই তিনি জন-সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে শনির আখড়া, জিয়া স্মরণী রোড, জনতাবাগ, দনিয়া সহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা চালান। এতে করে এলাকার লোকজন তাকে করোনার ফেরিওয়ালা হিসেবে-ই অভিহিত করে। গত, বেশ কিছুদিন যাবত তার অনুপস্থিতিতে জনমনে চলমান প্রশ্ন বিরাজ করছে, তবে কি ফেরিওয়ালা আজ নিজেই আক্রান্ত?

এ বিষয়ে ফোনে, কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ "জামাল উদ্দিন মীর" দৈনিক বাংলাদেশের আলো-কে বলেন, করোনা যুদ্ধে অংশ নিয়ে আমি সহ কদমতলী থানার আরও ৫ পুলিশ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। আমি সুস্থ হয়ে গত পরশু দিন থানায় দায়িত্ব নিয়ে কাজে যোগদান করেছি। এই থানায় কর্মরত এস. আই. মামুন সহ আরও ৩ জন পুলিশ সদস্য হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এর মধ্যে মামুন এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। ওর টেস্ট করানো হয়েছে, রিপোর্ট ২/১ দিনের মধ্যে চলে আসবে। তবে করোনা মোকাবিলায় মামুনের ভুমিকা প্রসংসনীয় ছিল। কিন্তু এখন যেহেতু আমাদের কিছু পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত আছেন, সেহেতু সকলের নিরাপত্তার জন্য যখন আমাদের কর্মরত কোন পুলিশ সদস্যের মধ্যে গভীর জ্বর বা অন্য কোন সিমটোম দেখতে পাই, তবে আমরা তাকে কতৃপক্ষের শিদ্ধান্ত মোতাবেক হোম কোয়ারান্টাইন অথবা আইসলুশনে থাকার নির্দেশ দেই।

পর্যায়ক্রমে, করোনা মোকাবিলায় অংশ নেওয়া এস. আই. শহীদুল্লাহ মামুনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি জ্বরে আক্রান্ত! তবে করোনার অন্য কোন উপসর্গ নেই তার। তারপরও টেস্ট এর জন্য সিরিয়াল দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হোম কোয়ারান্টাইনে আছেন। সে সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশী।

এদিকে উক্ত এলাকার বাসিন্দা ফাহিম হক সবুজ জানান, করোনার দূর্যোগ মুহূর্তে তার উপস্থিতি যেমন লক্ষনীয় ছিল, ঠিক তেমনি অনুপস্থিতিতেও এক ধরনের শূন্যতা পরিলক্ষিত হয়। তবে করোনা প্রতিরোধে তার ভুমিকা ছিলো নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবিদার। যার ধারাবাহিকতায় জনসার্থে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করন, বিভিন্ন জায়গায় জীবানুনাশক ছিটানো, ঘরে অবস্থান করা বাসিন্দাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে আসা যাওয়ার জন্য পরিবহণ সুবিধা দেওয়াসহ নানা ধরনের মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন কদমতলী থানার আওতাধীন জনতাবাগ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এস, আই শহীদুল্লাহ মামুন। যাই হোক, তিনি সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দেবেন, সেটাই এখন সকলের প্রতাশা।