দীর্ঘদিন যাবৎ তীব্র গ্যাস সংকটে নাকাল কামরাঙ্গীরচর

দীর্ঘদিন যাবৎ তীব্র গ্যাস সংকটে নাকাল কামরাঙ্গীরচর

ইবনে ফরহাদ তুরাগ ঃঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ডের পাঁচ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে কামরাঙ্গীরচর এলাকা গঠিত। এ এলাকায় বসবাস করছে প্রায় ১৪ লক্ষাধিক মানুষ। কিন্তু এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হলেও এখানকার বাসিন্দারা মৌলিক নাগরিকসেবা থেকে এখনও অনেকাংশেই বঞ্চিত। কিছু সমস্যা যেন এই এলাকার নিত্যদিনের সঙ্গী। এখানকার বাসিন্দাদের বিদ্যমান সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো গ্যাস সংকট। বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচরের রহমতবাগ, কুমিল্লাপাড়া, নিজামবাগ, কয়লাঘাট, মুসলিমবাগ, করিমাবাদ, ছাতামসজিদ, মাদবর বাজার, মমিনবাগ, ইসলাম নগর, আচারওয়ালারঘাট, হুজুরপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, খোলামোড়াঘাট, নবীনগর, আলীনগর ও মুন্সীহাটি এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে এসব এলাকায় গ্যাস থাকে না। কখনও কখনও সকালের দিকে গ্যাস থাকলে তা জ্বলে মোমের মতো।

ফলে গ্যাস না পেলেও ঠিকই বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে কামরাঙ্গীরচরবাসীর। সরেজমিন দেখা যায়, কামরাঙ্গীরচরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অননুমোদিত কল-কারখানার সংখ্যা। যেগুলো গ্যাস সরবরাহ ছাড়া সক্রিয় রাখা প্রায় অসম্ভব। তাই এসব অননুমোদিত কারখানা সক্রিয় রাখতে নেওয়া হচ্ছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ। ফলে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকায় ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ প্রচন্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি সপ্তাহের শুক্রবারসহ সপ্তাহের সাত দিনই গ্যাসের সংকট মহামারি আকার ধারণ করে। সপ্তাহের অন্যান্য দিন কারখানায় গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার একজন শ্রমিক বাংলাদেশের আলো-কে বলেন, কারখানায় গ্যাস থাকলেও ওই একই সময় কারখানার পাশে যে বাসাটি আছে সেখানে কিন্তু কোনো গ্যাস নেই। এর কারণ হলো ওই কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থায় বাসাবাড়ির লাইনে থাকা গ্যাস টেনে নিচ্ছে। এতে একই সময়ে কারখানার চুলায় গ্যাস মিললেও বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাস থাকে না। মূলত কামরাঙ্গীরচরে যদি অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ করা হয় তাহলে গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একাংশের বাসিন্দারা গ্যাসের বিড়ম্বনায় দিন কাটাচ্ছে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় খবর ছাপা ও তিতাস গ্যাস কোম্পানির কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। জানা যায়, গ্যাস সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিতাসের কাছে আবেদন করে। এরপর ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট আবারো সমস্যার কথা তুলে ধরে আবেদন করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পুনরায় তারা তিতাস গ্যাস প্রধান কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছে। কামরাঙ্গীরচর এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও কয়েক দফায় তিতাসের ডিরেক্টর অপারেশন ও মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন। কিন্তু এখনো সংকট নিরসন বা কোন সমাধান পায়নি তারা।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকেই গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্ন করতে চাচ্ছেন। অনেকেই আবার গ্যাস বিল পরিশোধ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিতাসের কাছে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় তারা মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করছেন। এলাকাবাসী বলেন, যারা দায়িত্ব আছেন তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অথচ মাস শেষে ঠিকই আমাদের থেকে বিল নিচ্ছে। তাহলে কেনো মাস শেষে গ্যাস বিল দিতে হবে? আবার বিল না দিলে গ্যাস লাইন কেটে দেয়ার হুমকি।

তাহলে কি আমরা এর কোনো সমাধান পাবো না? যত দিন যাচ্ছে ততই সমস্যা বাড়ছে। অভিযোগ দিতে দিতে আর ইচ্ছে নেই অভিযোগ দেয়ার। এ ব্যাপারে ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম মাদবর দৈনিক বাংলাদেশের আলো-কে বলেন, আমি প্রথমবার এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আমি আমার ওয়ার্ডের দীঘদিন যাবত চলমান সবচেয়ে বড় সংকট গ্যাস এর ব্যাপারে তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানাই  এবং বলি আমাদের ওয়ার্ডে তিতাসের গ্যাসের পাইপ আছে, কিন্তু গ্যাস নেই, কিন্তু আমরা প্রতি মাসে গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছি।

এরপর তিতাস গ্যাস থেকে এখানে এসে জরিপ করে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলে, আপনারা একটা আবেদন করেন নতুন করে, যে আবেদনটি হচ্ছে, যেখানে দুই ইঞ্চি পাইপ আছে সেখানে চার ইঞ্চি, আর যেখানে চার ইঞ্চি আছে সেখানে আট ইঞ্চি পাইপের আবেদন করেন। পরে সে আবেদনটি করলাম, তারা এসে বিকাল ৫টা ২০ সময়ে মাপল এবং গ্যাস পেলো ২০ পারসেন্ট। তখন তিতাসের এমডি ছিল নওশের আলী! তিনি বলল, এটার মধ্যে ১০০ ভাগ গ্যাস থাকার কথা। তারপর তারা আসলো-গেলো, অনেকেই অনেক কথা বললো, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তাদের আসা যাওয়া পর্যন্তই শেষ। কিন্তু আমার এলাকায় গ্যাস লাইনের পাইপ আছে, তবে গ্যাস নাই। তবে বিল দিয়ে যাচ্ছে আমার ৫৭ নং ওয়ার্ডসহ কামরাঙ্গীরচরবাসী।