বদলে দেওয়ার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন

বদলে দেওয়ার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন

ইবনে ফরহাদ তুরাগ 
কামরাঙ্গীরচরের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত ৫৬ নং ওয়ার্ড। প্রায় ৫ লাখ লোকের বসবাস। এই ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। ২০১৫ সাল থেকে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আছেন মোহাম্মদ হোসেন। এলাকাবাসী বলেন, রাজনৈতিক পারদর্শিতা, উচ্চশিক্ষা, মানবসেবা ও এলাকার উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাধারণ মানুষের বিপদে সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এ কারণে তিনি বিপুল ভোটে একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেই ইমেজ ধরে রেখে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আধুনিক নাগরিক সুবিধার মডেল ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি মোহাম্মদ হোসেন কামরাঙ্গীরচর থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করছেন ।


এই ওয়ার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ হোসেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোকে বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এবার হবে উন্নয়ন। মেয়র তাপস আমাদের এই ঢাকাকে ৫ ভাগে বিভক্ত করে আধুনিকায়ন ও পরিকল্পিত বসবাসের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেভাবে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাবেক সফল খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সহযোগিতায় আমি ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজাবো।

তিনি আরও বলেন, এখানে একটি আধুনিক খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, ব্যায়ামাগার ও পাঠাগার, গ্যাস লাইন সচল করা, পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও রাস্তা প্রশস্তকরণ, ওয়ার্ডের প্রবেশমুখে কয়েকটি আধুনিক ব্রিজ, বেইলি ব্রিজ, হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রঃ) এর স্মরণে গেট অব হাফেজ্জী হুজুর নির্মাণ, রসুলপুর ব্রিজের প্রবেশপথে গেট অব কামরাঙ্গীরচর নির্মাণ, ইসলাম নগরে প্রতিটি রাস্তায় উভয় প্রবেশপথে নিরাপত্তা গেট নির্মাণ, রসুলপুর এলাকার সম্ভাব্য রোডে বেড়িবাঁধের সঙ্গে একাধিক সংযোগ ব্রিজ নির্মাণসহ মুসলিমবাগ হতে হাজারীবাগ পর্যন্ত খালটিকে হাতিরঝিলের ন্যায় দৃষ্টিনন্দন লেকে পরিণত করা রয়েছে পরিকল্পনায়। বিগত মেয়রের আমলে আমরা এসে শুধু রাস্তাঘাটগুলো পেয়েছি, তখন আমার ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়তে মেয়রের নির্দেশে অনেক প্রকল্পে হাত দিতে হয়েছে, অসমাপ্ত রয়েছে।

এলাকাবাসীর কাছে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলো। তবে নতুন মেয়র ক্ষমতায় আসার পর তার প্রচেষ্টায় সেই অসমাপ্ত কাজগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমার এলাকাটি এখন আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে। পাল্টে গেছে এলাকাবাসীর জীবনব্যবস্থা। যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এসেছে নানা রকম পরিবর্তন। একই সঙ্গে খাসজমি পাওয়া সাপেক্ষে ৫৬ নং ওয়ার্ডে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য একটি মাঠ খুঁজে বের করার জন্য তাগিদ দেন মেয়র।

 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পুরনো সড়ক মেরামত, নতুন সড়ক নির্মাণ, ড্রেন-স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণ, গোটা এলাকার গুরুতপূর্ণ স্থানগুলোতে নিজ অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ডিএসসিসির এলইডি লাইটের মাধ্যমে জনজীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি আনা হয়েছে। এছাড়া নবনির্মিত কমিউনিটি সেন্টারটি অচিরেই চালু করাসহ এলাকায় আরও দুটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এই কামরাঙ্গীরচরটি একসময় প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো ছিলো। বিগত পাঁচ বছর আমার ওয়ার্ডবাসীর জন্য কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছি তা তুলে ধরার পূর্বে আমার জন্মভূমি কামরাঙ্গীরচরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সকল জনপ্রতিনিধি তাদের মেধা আর শ্রম দিয়ে গেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। কিছু কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা নেতা থাকেন, যাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাজে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকেন তেমনি একজন জনপ্রতিনিধি ঢাকা-২ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়নে এমপির বহুমুখী অবদান অনস্বীকার্য। অত্র এলাকাকে ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থা থেকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি যে ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তার জন্য কামরাঙ্গীরচরবাসী প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চিরঋণী ও কৃতজ্ঞ থাকবে। সেই আদর্শ আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এই অবহেলিত জনপদটিকে আধুনিক মডেল শহরে পরিণত করার জন্য আমি আমার এমপি ও মেয়রের সহযোগিতা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তন্মধ্যে রসুলপুরে ৬ তলা ভবন বিশিষ্ট অত্যাধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, ৩১ শয্যার হাসপাতাল, শেখ জামাল সরকারি হাই স্কুল এবং বিভিন্ন রাস্তাঘাটের চলমান কাজসহ বর্জ্য অপসারণ ও মশা নিধনে আমাদের ওয়ার্ড বর্তমানে অনেকটা এগিয়ে। যার ফলে এখন নতুন রূপ পাচ্ছে আমাদের কামরাঙ্গীরচর, শুরু উন্নয়নের স্বর্ণযুগের অভিযাত্রা।

 

বি আলাে ইমরান