বাংলার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার জন্মদিন আজ

বাংলার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক: বাংলার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার জন্মদিন আজ। ১৯৫৩ সালের আজকের এ দিনে তৎকালীন বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, মা বি জে আরা ছিলেন চিকিৎসক। ববিতার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায় হলেও বাবার চাকরি সূত্রে বাগেরহাটেই থাকতেন তারা। তার শৈশব ও কৈশোরের শুরু সময়টা কেটেছে যশোর শহরে।

শিক্ষাজীবনে খুব বেশি দূর না যেতে পারলেও বড়বোন সুচন্দার অনুপ্রেরণায় চলচ্চিত্রে পা রাখেন ববিতা। ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ সিনেমার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

চলচ্চিত্র জগতে তার প্রাথমিক নাম ছিলো ‘সুবর্ণা’। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ সিনেমাতে অভিনয় করতে গিয়েই তার হয়ে যায় ‘ববিতা’। ১৯৬৯ সালেই নায়িকা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন ববিতা।

জহির রায়হানের ‘টাকা আনা পাই’ সিনেমাটি ছিল তার টার্নিং পয়েন্ট। এরপর তিনি অভিনয় করেন নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’ সিনেমাতে। যা ওই সময় সুপারহিট হয়েছিল। 

বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে অভিনয় করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রে। তিনি সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা যে নায়িকা প্রথম উড়িয়েছিলেন তিনি ববিতা। 

এরপর তিনি অভিনয় করেছেন অসংখ্য সিনেমাতে। ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি স্বরূপ আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়বার বাচসাস পুরস্কার এবং একাধিক আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

নিজের এবারের জন্মদিন প্রসঙ্গে এই গুনি তারকা বলেন, ‘এ দিনটি কখনো ঘটা করে পালন করি না। আত্মীয়-স্বজন ফোন করে। তারপরও প্রতিবছর যেমন হয় পরিচিত বন্ধু ও সহকর্মীদের কেউ কেউ শুভেচ্ছা জানাতে সরাসরি বাসায় আসেন। এবার করোনাকালে সে সুযোগ নেই। গত কয়েক বছর আমাকে ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের [ডিসিআইআই] ছোট ছোট শিশুরা শুভেচ্ছা জানিয়ে আসছে। এই দিনে তারা আমাকে নেচে-গেয়ে আনন্দে মাতিয়ে রাখত। খাওয়া-দাওয়াও হতো। এ সম্মিলনও এবার হচ্ছে না। জন্মদিনে শিশুদের সঙ্গ খুব মিস করব। বরাবরই এই দিনে নিজের মতো করে থাকি। সবাই দোয়া করবেন যেন ভালো ও সুস্থ থাকি।’

বাংলাদেশের আলো পরিবারের পক্ষ থেকে এই গুণী শিল্পীর প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

বিআলো/ইসরাত