বিশ্বে মৃত্যুহারের অন্যতম একটি কারণ সিওপিডি

বিশ্বে মৃত্যুহারের অন্যতম একটি কারণ সিওপিডি

বিশ্বে মৃত্যুহারের অন্যতম একটি কারণ: সিওপিডি। সিওপিডি একটি জটিল রোগ, যা জিনগত আচরণতগ ও পরিবেশিত কারণ, ধূমপান, পেশাগত দূষণ, বায়ুদূষণ এবং শৈশব নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ দিয়ে প্রভাবিত হয় । এ ছাড়া পুষ্টি এবং নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায়ই রোগটি নির্ণয় করা হয় না এবং পরিণত অবস্থাতেই চিকিৎসা করা হয়। যদিও তরুণদের মাঝেও এটি একটি শারীরিক সমস্যা। সিওপিডি হওয়ার সবচেয়ে প্রধান কারণ ধূমপান। বিশেষভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, প্রায়ই সিওপিডি এবং হাঁপানি একে অপরের সঙ্গে ভুলভাবে নির্ণয় করা হয়। সিওপিডি ও হাঁপানির  মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা প্রয়োজন। এ দুটি রোগের কারণ এবং প্রক্রিয়া ভিন্ন, চিকিৎসার ফলও ভিন্ন। এখন পর্যন্ত  সিওপিডি প্রতিকার সম্ভব হয়নি।  তবে এর অগ্রগতিক কমানো সম্ভব। সঠিক প্রথা, নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যায়াম, রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য দৃঢ় মনোবল দিয়ে বেশির ভাগ রোগী তাদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কিছুটা ফিরে পেতে পারেন। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান আগের তুলনায় উন্নততর হতে পারে। 

সিওপিডি নির্ণয় : সিওপিডি নির্ণয়ের জন্য সতর্কতার সঙ্গে রোগীর ইতিহাস জানতে হবে, রোগীকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করতে হবে এবং সর্বশেষ ল্যাবরেটরিতে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলে ধূমপান সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা। 

যেমন : কোন বয়সে রোগী ধূমপান শুরু করেছেন? প্রতিদিন রোগী কী পরিমাণ ধূমপান করেন? তিনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন কি না? ছেড়ে দিলে তা কত দিন আগে? পরোক্ষ ধূমপানের কোনো ইতিহাস আছে কি না ইত্যাদি। রোগীর পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। জানতে হবে রোগীর কাশি আছে কি না এবং থাকলে কাশির সঙ্গে কফ বের হয় কি না? বের হলে তা কত দিন ধরে? কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয় কি না? রোগীর শ্বাসকষ্ট আছে কি না? রোগীর কাশির সময় বাঁশির মতো আওয়াজ হয় কি না? রোগী প্রায়ই শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হন কি না? কোনো মানুষের সঙ্গে জন্মগতভাবেই সিওপিডি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় একটু বেশি  থাকে। এ অপরিবর্তনীয় ঝুঁকিগুলোকে আমরা হোস্ট ফ্যাক্টও বলি। যেমন, জেনেটিক কোনো সমস্যা । যাদের শ্বাসতন্ত্র হাইপার রেসপনসিভ। ফুসফুসের গঠন ও বৃদ্ধিজনিত কোনো সমস্যা থাকে যাদের। মহিলাদের তুলনায় পুরুষের এ  রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও  পরিবেশগতভাবে  বিভিন্ন উপাদানের সংস্পর্শে সিওপিডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে উপদেশ। যেমন: (১) ধূমপান (২) কর্মক্ষেত্রে ধুলা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ (৩) বায়ুদূষণ ও (৪) সংক্রমণ ইত্যাদি। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিলে নিরাময় হয়। 

সিওপিডি ও হাঁপানির মধ্যে পার্থক্য : সিওপিডি ও হাঁপানির মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। আসলে কোনো রোগী সিওপিডি আক্রান্ত কি না তা নির্ণয় করার সময় রোগীর হাঁপানি আছে কি না, তা পার্থক্য করা দিতে হবে। হাঁপানি এবং সিওপিডির মধ্যে পার্থক্য করা খুবই প্রয়োজনীয়। সিওপিডি সাধারণত মধ্য বয়স্কদের রোগ, ধূমপানের ইতিহাস এখানে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।  এখানে অ্যালার্জি  বা পারিবারিক ইতিহাসের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। প্রচুর কফ হয় এ রোগে। শ্বাসকার্য ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যেতে থাকে। ব্রংকাডাইলেটর ওষুধ সন্তোষজনক নয় এবং সাধারণত এ রোগ ফুসফুসের প্যারেনকাইমা বিনষ্ট হয়। অপরদিকে হাঁপানি যে কোনো বয়সে হতে পারে। ধূমপান এ রোগের কারণ নয়, তবে ধূমপানে রাইনাইটিস এবং একজিমা  আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে। এখানে কফ খুবই কম উৎপাদন হয়। ব্রংকাডাইলেটরে এ রোগীর রেসপন্স খুবই ভালো এবং হাঁপানি ফুসফুসের প্যারেনকাইমা বিনষ্ট হয় না। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে।  


আলহাজ ডা.এম এন ইসলাম  (বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক)
বোর্ড সদস্য:  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। 
চেম্বার : ডা. এম এন ইসলাম হোমিও হল (জার্মান হোমিও হেলথ্) 
চেম্বার : এইচ-২৩,আমতলী,মহাখালী,এয়ারপোর্ট রোড ঢাকা।
রোগী দেখার সময়: সকাল ১০-২টা, ৫-৯টা রবিবার বন্ধ।
০১৯৭০ ৫৫৫৯১৯, ০১৭৫২ ১১৭১৬১