মনপুরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাব

মনপুরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাব



আকতারুল ইসলাম আকাশ, ভোলা প্রতিনিধি: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা দেশের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে উঠছে। বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা মেঘনা তীরে সি বিচের আকর্ষণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিচ ঘিরে ম্যানগ্রোভ বন, বন্যপ্রাণী, অসংখ্য ডুবোচর মনপুরার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসছেন এখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মায়াবী মনপুরায় শীতে ভ্রমণ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময় এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মনপুরা শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম শাহিন বলেন, এখানকার প্রধান আকর্ষণ দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন মেঘনা তীরের প্রায় ১ কিলোমিটারের সি বিচ। গত বছরের ঈদে স্থানীয়
ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহধর্মিণী এই সি বিচের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এই বিচ গড়ে ওঠায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক মনপুরায় আসা শুরু করছেন।

কী আছে দখিনার হাওয়া সি বিচে : দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা মেঘনা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে প্রায় ১ কিলোমিটারের দখিনা হাওয়া সি বিচ। সামুদ্রিক পাখির কলকাকুলি, ম্যানগ্রোভ বন, হরিন, বানর পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এখানকার সমুদ্রের
ঢেউ আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। এখান থেকে সূর্যোদয়ও দেখা যায়। মনপুরা উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণে ২০ কিমি. দূরে এ সি বিচ। কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে লঞ্চে মনপুরা ডেকে ৩০০ টাকা এবং কেবিনে ১ হাজার ২০০ টাকায়
যাওয়া যাবে। বরিশাল থেকে সকালে লঞ্চে ভোলার ভেদুরিয়া থেকে বাসে তজুমদ্দীন ঘাট। সেখানথেকে লঞ্চে মনপুরা পৌঁছাবে সন্ধ্যায়। রিজার্ভ লঞ্চেও পৌঁছানো যাবে মনপুরায়।

থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত : মনপুরা সদরে ডাক বাংলোও কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। তবে পর্যটকদেরচাপের বিপরীতে আবাসিক ব্যবস্থা এখনও গড়েউঠেনি। মনপুরা সদর থেকে মোটরসাইকেল,অটোরিকশায় দখিনের হাওয়া সি বিচেপৌঁছানো যাবে। অবশ্য সি বিচে এখনও হোটেল,রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেনি। বিচে কিছু ছাউনি ওতাঁবু রয়েছে। শীতে হাঁস, ইলিশ, পোয়া, তপসে মাছ, চিংড়ি স্বল্প দামে পাওয়া যায় মনপুরায়। থাকা-
খাওয়ার খরচ এখানে কম।

বিচে স্বেচ্ছাসেবক দল : দখিনা হাওয়া সি বিচের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সভাপতি কলেজছাত্র
রাকিবুল হাসান বলেন, পর্যটদের সুরক্ষা দেওয়াই তাদের টার্গেট। বিদায়ি বছরের ডিসেম্বরেই
এখানে পর্যটক এসেছেন প্রায় ৮ সহস্রাধিক। থার্টিফার্স্টে এর সংখ্যা ছিল ২ হাজার। নতুন বছরে
চলমান শীত মৌসুমে পর্যটক কয়েকগুণ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। কেন আসবে মনপুরায় পর্যটক এ
প্রসঙ্গে রাকিবুল বলেন, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের কাছে মেঘনার কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দখিনা
হাওয়া সি বিচ। বিচে আছড়ে পড়া ঢেউ, কেওরা বন, হরিন, বানর, অসংখ্য ডুবচর আর মাত্র ১৫

মিনিটের পথে যাওয়া যাবে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত নিঝুপ দ্বীপে। যেখানে রয়েছে হরিণ, কেওরা
বন, ট্যুরিস্ট টাওয়ার এবং ডুবচর বলে জানান তিনি। পর্যটকদের ভাষ্য : মনপুরায় গত বৃহস্পতিবার লর্ডহার্ডিঞ্জ থেকে এসেছিল একটি পিকনিক পার্টি। পিকনিকে আসা একাদিক ট্যুরিস্ট জানান, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা মনপুরা।  সরকার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মনপুরাকে ঘোষণা দিলে এখানে বাড়বে বিনিয়োগ। দৈনিক ঢাকা,  বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা থেকে এখানে পর্যটক আসেন এ দ্বীপে ভ্রমণে।

দখিনা হওয়া গড়ার কারিগর : দক্ষিণ সাকুচিয়াইউপি চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল বলেন, দখিনা হাওয়া সি বিচ গড়ে তুলতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছেন তার স্ত্রী সাথী কাজল। গত বছরের রোজার ঈদ থেকে এ বিচের যাত্রা। এরই মধ্যে
জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার এখানে ঘুরে গেছেন। তাদের পরামর্শে পর্যটন মন্ত্রণালয় ১ কোটি টাকার প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলে ব্রিজ, কটেজ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্ট্রিট লাইট সংযোগ দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, আপতত ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে একটি গেট ও ওয়াশরুম করা হচ্ছে। এসব উন্নয়ন হলে মনপুরার রহমানপুর গ্রামের সাগর ঘেঁষা এ সি বিচে মানুষের ঢল নামবে বলে জানান তিনি।

প্রশাসনের মতামত : মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামিম মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে গত সেপ্টেম্বরে ভোলার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। তাতে মনপুরা উপজেলাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। তিনি বলেন, মনপুরা পর্যটন স্পট হিসেবে বেশ সম্ভাবনাময়। এখানে সি বিচের আদলে সাগর ঘেঁষা মেঘনা তীরে ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে। নদীসংলগ্ন খালে চর ফয়জউদ্দিন নামে একটি ব্রিজ রয়েছে রিভার ক্রস
ড্যাম। ল্যান্ডিং স্টেশন ও গ্রিন হ্যাভেন সবুজ বনায়ন। মাত্র আধা ঘণ্টায় যাওয়া যাবে নিঝুম দ্বীপে। তিনি বলেন, দখিনের হাওয়া নামে যে বিচ গড়ে উঠেছে, এটি সাগর সংলগ্ন। স্থানীয় চেয়ারম্যান এটি ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

বঙ্গবন্ধু চিন্তা নিবাস করারও প্রস্তাব করা হয়েছে মনপুরায়। তবে সংকট হিসেবে তিনি আবাসন ব্যবস্থা না থাকাকে তুলে ধরেছেন। মার্চের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে উপজেলাটিকে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারও মাসিকসভায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হয়রানি না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

বিআলো/শিলি