যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

সুমন সরদার : ঢাকা কমার্স কলেজের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাইদুর রহমান মিঞার বিরুদ্ধে একই বিভাগের দুই শিক্ষিকার যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে হাইকোর্ট কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি।

উল্লেখ্য, ঢাকা কমার্স কলেজের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কাছে বিভাগীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর সাইদুর রহমান মিঞার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন বাংলা বিভাগের দুই শিক্ষিকা এরিন সুলতানা ও রোমানা সারমিন খান ঈশিতা। ঢাকা কমার্স কলেজের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রফেসর সাইদুর রহমানকে সমন পাঠালে ১৬/০৯/১৯ তারিখে লিখিত জবাব দেন তিনি।

দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষীগণের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ০৫/১০/১৯ তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যৌন হয়রানির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা। অভিযোগকারীদের একজন সময় নিয়েও সাক্ষ্য দিতে আসেননি, অপরজন সাক্ষ্য গ্রহণে কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারীরা তাদের অনৈতিক কাজে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতা না পাওয়ায় এমন অভিযোগ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশে উল্লেখ করা হয় , বেগম এরিন সুলতানা একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকের উপর এমন অভিযোগ ন্যক্কারজনক। শুধু নিজ স্বার্থ  চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই অভিযোগ করেছেন এবং প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন।

বেগম রোমানা শারমিন খান তার অনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেয়ায় বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন। তিনিও প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্মানিত গভর্নিং বডির নিকট বিবাদী সাইদুর রহমান মিঞাকে এই অভিযোগের দায় থেকে মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করছি এবং দুই জন বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করছি ।

ঢাকা কমার্স কলেজের অভিবাবক রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছেলে- মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাই শিক্ষা গ্রহণের জন্য। কিন্তু এখন দেখছি বাচ্চারা শিক্ষকদের কাছ থেকে অনৈতিকতা শিখছে। এ কলেজে ৩ জন শিক্ষক এমন জগন্য কাজে লিপ্ত , আবার তারা একজন সম্মানী শিক্ষককে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়ালো, তারা এ শিক্ষককেরই নয় পুরো কলেজের সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। কলেজের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়েছে। যাদের কারণে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এর আগে প্রভাষক এরিন সুলতানার অশ্লীল ছবি কলেজের শিক্ষার্থী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এবং অপর শিক্ষিকা বাংলা বিভাগের প্রভাষক রোমারা সারমিন খান ঈশিতা ও প্রভাষক রেজাউল আহম্মেদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কলেজজুড়ে তোলপাড় হলে তদন্ত কমিটির গঠন করে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অনৈতিক কর্মে জড়িত থাকায় তাদের বহিষ্কারে সুপারিশ দেয়া হয় গভর্নিং বডির কাছে। তাদের বিচার কাজ চলমান থাকার মধ্যেই দুই শিক্ষিকা অভিযোগ করেন  প্রফেসর সাইদুর রহমান মিঞার বিরুদ্ধে।

বাংলা বিভাগের চেয়াম্যান প্রফেসর সাইদুর রহমান মিঞা বলেন, সত্যের জয় সব সময়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনবে কেউ আমি ভাবিনি। আমি একজন শিক্ষক বলে শিক্ষকদের নৈতিকতার অবক্ষয়ে সমর্থন করতে পারি না। আর তাই আমার সম্মান ক্ষুণœ করতে এমন জগণ্য অন্যায় করতে দ্বিধা করেনি।


এদিকে ঢাকা কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সফিকুর রহমান বাংলাদেশের  আলোকে বলেন, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাইদুর রহমানকে যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি উনাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। আর অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় পূর্বের অভিযোগে এরিন সুলতানা, রোমান খান ঈশিতা ও  রেজাউল আহম্মেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।