রাজধানীর হাটগুলো পশুতে ভরে উঠছে

রাজধানীর হাটগুলো পশুতে ভরে উঠছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কোরবাণী পশুর হাটগুলো গরু ছাগলে ভরে উঠতে শুরু করেছে। ঈদের দিনসহ পাঁচ দিনের জন্য হাটের ইজারা দেয়া হলেও কয়েক দিন আগে থেকেই হাটগুলোতে পশু আনা হচ্ছে। বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর কোরবাণী পশুর হাটগুলো গরু ছাগলে ভরে উঠতে শুরু করেছে। ঈদের দিনসহ পাঁচ দিনের জন্য হাটের ইজারা দেয়া হলেও কয়েক দিন আগে থেকেই হাটগুলোতে পশু আনা হচ্ছে। বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, অস্থায়ী কোরবাণী পশুর হাট পশুতে ভরতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেতাদের দিকে চেয়ে আছেন। উৎসুক ব্যক্তিরা পশু দেখতে আসছেন। তাদের কাছে বেশি দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের চাহিদার আলোকে ব্যবসায়ীরা দাম কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবেন।

গতবারের মতোই এবারও পশুর দাম হাঁকা হচ্ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে দাম ওঠানামা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেউ কেউ বলছেন, রাজধানীতে এবার গরুর হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় গরুও কম উঠবে। এ কারণে শেষ দিকে গরু সংকটে দাম বেড়ে যেতে পারে।

কেননা, হাট বসানো নিয়ে দ্বিধাদ্ব›দ্ব ছিল শুরু থেকেই। এজন্য মৌসুমি অনেক ব্যবসায়ী এবার গরু আনছেন না। নানা কারণে গরু সংকটের আশঙ্কা কারও কারও।

সরজমিন রোববার আফতাব নগর হাট ঘুরে দেখা গেছে, এ হাটে অন্তত তিন হাজার গরু উঠেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসুক লোকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেককে হাটে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। ২-৩ জন করে একত্রে গরু দেখছেন, দাম শুনছেন।
স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে মাইকিং করা হলেও ব্যবসায়ী, ইজারাদার প্রতিনিধি বা ক্রেতাদের কমই তা মানতে লক্ষ করা গেছে।

জামালপুরের ব্যবসায়ী ইমরুল কায়েস জানান, হাটে তিনি তিনটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। দেশীয় প্রজাতির প্রতিটি ষাঁড়ের দাম তিনি হেঁকেছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। উৎসুক ক্রেতাদের একজন ইমান আলী বলেন, আমার বাসা বনশ্রী। এ হাট থেকে গরু কেনার চিন্তা করছি। এজন্য হাটের পরিস্থিতি বোঝার জন্য এসেছি।

সরজমিন মেরাদিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক থেকে দেড় হাজার গরু উঠেছে এ হাটে। গরুর পাশাপাশি কয়েক হাজার ছাগলও দেখা গেছে। এখানেও আফতাব নগরের মতোই চিত্র লক্ষ করা গেছে। বিক্রি নেই, ক্রেতারা ঘোরাঘুরি করে দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।

জানা গেছে কমলাপুর, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন, ডুমনি, মৈনারটেক এবং উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর হাটেও অনেক গরু উঠেছে। এসব হাটেও ক্রেতারা আসছেন, ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দাম জানছেন।

কোনো কোনো হাটে স্বল্পপরিসরে বিক্রিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দনিয়া হাটে শুক্র, শনি এবং রোববার পশু বিক্রির কথা জানা গেছে। আর দেশের সর্ববৃহৎ গাবতলী কোরবাণী পশুর হাটেও প্রতিদিন পশু বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাট ঘুরে বের হওয়ার পর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা মো. সাইফুল্লাহ বলেন, দুই থেকে তিন হাজার গরু উঠেছে হাটে। মাঝারি আকৃতীর গরুর সংখ্যা বেশি। বেশির ভাগ পশুর দাম ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধির কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।

এ বিষয়ে অনেকে বলেন, গ্রামের খেঁটে খাওয়া মানুষের করোনা হবে না, এ রোগ শহরের সাহেব-বাবুদের।

ডেমরার আমুলিয়ার হাট ঘুরে যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, অনেক গরু উঠেছে। তবে বিক্রি শুরু হয়নি।

সোমবারের মধ্যে পশুহাট কানায় কানায় ভরে উঠবে বলে আশা করছেন হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। রাজধানীর পশু ব্যবসায়ী মো. সাফায়েত হোসেন বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার গাবতলী হাট, হাজারীবাগ হাটে গরু কম উঠেছে। এ কারণে চাহিদা বাড়লে শেষ দিকে গরুর সংকট এবং দাম বাড়তে পারে বলে মনে হয়।