শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা না গেলে অটোপাস

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা না গেলে অটোপাস

বিশেষ প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয়ভাবে এবার পিইসি ও ইইসি এবং জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হবে না। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তবে করোনা পরিস্থিতি ভালো না হলে বিকল্প হিসেবে অটোপাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনায় বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে থাকলেও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন, করোনার জন্য বর্তমানে শ্রেণি কার্যক্রম টিভি-রেডিওতে সম্প্রচার করা হলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই তাতে অংশগ্রহণ নেই। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মাপকাঠি সম্পর্কেও দুই মন্ত্রণালয়ের কোনো ধারণা নেই।

দেশে প্রাথমিকে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১০০, মাধ্যমিকে ১ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৩, প্রাক-প্রাথমিক ও ইবতেদায়িতে প্রায় ৪৫ লাখসহ মোট ৩ কোটির ওপরে শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর প্রথমে টিভি, পরে রেডিওতে ক্লাস কার্যক্রম সম্প্রচার করা হলেও মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাছাড়া আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের এসব পাঠ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের হার খুবই কম।

লক্ষ্মীপুরের চর রুহিতার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাসায় টিভি না থাকায় ক্লাস কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ যশোরের চৌগাছা থানার প্রত্যন্ত অঞ্চল দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রামে শতাধিক পরিবার থাকলেও মাত্র ১৫টি বাড়িতে টিভি আছে। স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানরা বাবার সঙ্গে ক্ষেতখামারে কাজে যায়। তারা কীভাবে বার্ষিক পরীক্ষা দেবে?’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৯ সালের তথ্যানুযায়ী, দেশের সাড়ে ৩ কোটি পরিবারের মধ্যে ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের বাড়িতে টিভি রয়েছে। সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার করায় অনেকে দেখতে পারছে না। যদিও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরিপে ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাস দেখছে বলা হয়েছে। তবে এসব ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ খুবই কম। 
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সাম্প্রতিক এই হাল-হকিকতের বিষয়টি দুই মন্ত্রণালয়ই জানে। তারপরও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছে উভয় মন্ত্রণালয়ই। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিকল্প হিসেবে অটোপাস দেওয়ার বিষয়টিও বিচেনায় রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দেরি হলে অটোপাস ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ। তিনি জানান, পঞ্চম শ্রেণির কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করতে তাদের যতটুকু পড়ানো হয়েছে, তার ওপর মূল্যায়ন করতে বার্ষিক পরীক্ষা ও সনদ দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সময়মতো প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এলেই কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা করা হবে। আর না খুলতে পারলে পরীক্ষার ভিন্ন কিছু ভাবা হবে।’

বিআলো/ইসরাত