শীত ও উপসর্গহীন করোনায় আমাদের সাবধান হতে হবে 

শীত ও উপসর্গহীন করোনায় আমাদের সাবধান হতে হবে 

জ,ই বুলবুল: প্রায় বছর জুড়েই করোনা মহামারি নাভিশ্বাস ফেলেছে পুরো পৃথিবীতে। বাংলাদেশও প্রায় ছয় মাস ধরে করোনাভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ ভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছুই অজানা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সামনে উঠে আসছে এই ভাইরাসের নতুন নতুন বিভিন্ন তথ্য। সম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই উপসর্গহীন। অর্থাৎ তারা করোনা সংক্রমিত কিন্তু তাদের জ¦র, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি না-ও থাকতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার সামান্য খারাপ লাগা, শরীর ম্যাজম্যাজ বা দুর্বলতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে উপসর্গ। করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পরও যাদের তেমন উপসর্গ থাকে না, তাদের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কি না, তা নিয়েই চলছে নিরন্তর গবেষণা।

শুরুতে মনে করা হয়েছিল যে, উপসর্গযুক্ত করোনা রোগীর মাধ্যমেই ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়। আসলে উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, করোনা সংক্রমিত যেকোনো রোগীর মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিন্তু উপসর্গ না থাকার দরুন কোনো কোনো রোগী নিজের অজান্তেই কোনো ধরনের সতর্কতা অবলম্বন না করে কর্মস্থলে যাওয়া, বাড়ির বাইরে যাওয়া কিংবা অন্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক মেলামেশা অব্যাহত রাখেন। এ কারণে উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীর তুলনায় উপসর্গহীন রোগীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশংকা বেশি। এ ছাড়া করোনা রোগী উপসর্গহীন হলেও হঠাৎ রক্তে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। একে হ্যাপি হাইপক্সিয়া বলে। এ ক্ষেত্রে রোগী নিজেও টের পান না যে তার শরীরে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। কাজেই উপসর্গহীন রোগীদেরও পালস অক্সিমিটারের মাধ্যমে মাত্রা পরিমাপ করে দেখতে হবে।

উপসর্গ না থাকলেও কোনো পরিশ্রমের কাজ না করাই শ্রেয়। বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর খাবার খান। কমলা, পেয়ারা, আমলকীর মতো টকজাতীয় ফল এবং দুধ, কলিজা, ডিম ইত্যাদি নিয়মিত আহার করুন। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ দ্রুত কমতে থাকা, হঠাৎ বমি, পাতলা পায়খানা, বুকব্যথা, পেটব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খিঁচুনি ইত্যাদি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

বেশির ভাগ মৃদু উপসর্গের ও উপসর্গহীন রোগীর তেমন কোনে ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোনো ওষুধ সেবন করবেন না। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। যাদের বয়স বেশি এবং ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগ অথবা উভয়ই আছে, যারা স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবন করেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সামান্য অবহেলা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

আসন্ন শীতেও এর প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত, তাই এখনই পরিবার নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। এছাড়াও উপসর্গহীন করোনা যতটা না নিজের জন্য ক্ষতিকর, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর নিজের প্রিয়জন, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বয়স্ক মানুষের জন্য। এজন্য পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণের উপস্থিতি ধরা পড়ার পরও কোনো উপসর্গ না থাকলেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। প্রিয়জনদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন। 


লেখক:
-আলহাজ মোহাম্মদ জ.ই বুলবুল
( সাংবাদিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক নিবন্ধকার)
ইমেল: নঁষনঁষনফ১২@ুধযড়ড়.পড়স ০১৮১৯-০১৭-৪২৭