শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে রামগতি পৌরসভা নির্বাচন

শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে রামগতি পৌরসভা নির্বাচন


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচন। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী পোষ্টার জুড়ে সাজানো হয়েছে পুরো পৌর এলাকা। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরের প্রতি অভিযোগ থাকলেও কাউন্সিল প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নির্বাচনী উৎসব। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে নানান সুরে গান বানিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। যদিও ভোটাররা চাচ্ছেন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হোক যোগ্য প্রতিনিধি।


রামগতি উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী রামগতির পৌরসভার নির্বাচন ইলেট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন ৭ জন। ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত ৩ আসনে নারী কাউন্সিলর পদে ১২ জন পার্থী হয়েছেন। ১০টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ৬৯ জন।


 

পৌর মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান পৌর মেয়র নৌকা প্রতীকের মো. মেজবাহ উদ্দিন মেজু, বিএনপির প্রাথী ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মো. আলমগীর হোসেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মো. আবদুর রহিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আবি আবদুল্যাহ ও মো. জামাল উদ্দিন।


এদিকে, বর্তমান পৌর মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু বিগত দিনের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। জনগণের ভোটে জয়ী হবেন জানিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমি বিগত ৫ বছরে পৌরসভার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। বর্তমানে পৌরসভার বহুতল ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হলে অবশিষ্ট যে কাজগুলো রয়েছে, সেগুলো অব্যাহত রাখবো।


অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীর তুলনায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাহেদ আলী পটুর প্রচারণা কিছুটা কম। দলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা আবি আবদুল্যা। ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে ধানের শীষ প্রতীকের উপর।


 

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাহেদ আলী বলেন, আমি যেখানেই প্রচারণা চালাতে যাই, সেখানে বাঁধার সম্মূখীন হচ্ছি। নৌকা প্রতীকের মো. মেজবাহ উদ্দিন মেজুর লোকজন আমাদের প্রচারণা এবং বৈঠকের আশেপাশে মোটসাইকেল মহড়া দেয়। এতে আমার কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আমি শুনতেছি- নৌকার কর্মীরা বলতেছে নির্বাচনের দিন ভোটাররা মেয়র পদে ওপেন ভোট দিতে। আমি প্রশাসনের কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ করেছি। তাদের বলেছি- এখানে যেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়। এতে যেই বিজয়ী হোক তাকে ফুলেল মালা দিয়ে বরণ করবো।


নির্বাচনে জমজমাট প্রচারণা চালচ্ছেন লাঙ্গল প্রতীকের মো. আলমগীর হোসেন। ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। ভোটাররা যেন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।


নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিদ্বন্ধী নৌকা প্রতীকের কর্মীদের বাঁধার সম্মূখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, আমাদের কোন কর্মী প্রতিদ্বন্ধী কোন প্রার্থীর প্রচারে বাঁধা দিচ্ছে না। সকল প্রার্থী নির্ভিগ্নে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে ইভিএম’র মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। এতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।


জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। আমরা আশাকরি একটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় বাঁধার বিষয়ে তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সেটা তদন্ত করে যদি প্রমাণ পাওয়া যায়- তাহলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিআলো/শিলি