স্রোতের ভিন্ন ধারায় এগিয়ে চলছেন কাউন্সিলর হোসেন

স্রোতের ভিন্ন ধারায় এগিয়ে চলছেন কাউন্সিলর হোসেন

ইবনে ফরহাদ তুরাগঃ ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির পর এবার অবৈধ ক্ষমতার দাপটে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ডিএসসিসির কাউন্সিলরের নাম আবারও উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। যা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। আবার সরকারের শুদ্ধি অভিযান আর দলের কাউন্সিলকে পুঁজি করে অনেক কাউন্সিলর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছেন বলে অনেক প্রতিবেদনে এমন তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে। এমন ঘটনায় জল্পনা কল্পনার শেষ নেই বিভিন্ন মহলে। তবে এসব আলোচনা সমালোচনার উর্দ্ধে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন ডিএসসিসির ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। এ সমস্ত বিষয়কে তিনি দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে।

নিজের অপরাধ রাজ্য আর টাকার পাহাড় গড়তে নয় বরং জনকল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজনীতিতে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও এম এ ডিগ্রিধারী ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন কমিটির নানান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সাথে। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও জনসাধারণের সমস্যা সমাধানেই নিজেকে ব্যস্ত রেখে এগিয়ে চলছেন সামনের দিকে।

এলাকাবাসী বলছেন, জনসাধারণের ছোট বড় যেকোনো সমস্যায় নিজের সঠিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন রাজনৈতিক দূরদর্শী প্রজ্ঞাবান এ কাউন্সিলর। সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসেবার পাশাপাশি ক্রিয়ামোদি এ কাউন্সিলর কামরাঙ্গীরচর থানা ক্রীড়া উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ও শেখ রাসেল আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজক। জানা যায়, কামরাঙ্গীরচরের এই ওয়ার্ডটি পূর্বে সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। সে সময়ে এই এলাকাটি প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মত ছিল। একসময়ের

সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হোসেনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এখন শহরের শান্তিপ্রিয় এলাকাগুলোর অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় কামরাঙ্গীরচর থানার প্রশাসনকে ও কামরাঙ্গীরচর থানা কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে সকল মাদক ,সন্ত্রাস, দখল, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজি ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে কঠোর অবস্থান তার। সম্প্রতি সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ভুমিকা নিয়ে করনীয় ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যাপক
আলোচিত হন এই কাউন্সিলর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মোহাম্মদ হোসেন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস নির্মূলে যেমন সফল হয়েছেন তেমনি আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে এ এলাকার। সড়ক, ফুটপাতে হয়েছে দৃশ্যমান উন্নয়ন। মোহাম্মদ হোসেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অতি আপনজন। যে কোনো সমস্যা সমাধানে উনার মত কাউন্সিলর দ্বিতীয় কেউ নেই। কোনো অন্যায়, অপশক্তির কাছে তাকে আমরা মাথা নোয়াতে দেখিনি। কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে কেউ বিমুখ হয়নি কোনো দিন। মোহাম্মদ হোসেনের মত লোক যে এলাকায় কাউন্সিলর হবে, বদলে যাবে সে এলাকার দৃশ্য।

৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সেলিম বলেন, যে কোন বিপদ আপদে কাউন্সিলরকে পাশে পাই আমরা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও যে কোন সমস্যা সমাধানে তিনি থাকেন আন্তরিক। আমাদের এলাকায় কোন ছিনতাইকারি নেই, রাস্তা- ঘাটে চলাফেরায় রয়েছে যতেষ্ট স্বাধীনতা। কেউ অপরাধ করেছে আর হোসেন ভাই তাকে প্রশ্রয় অথবা ছাড় দিয়েছে এমন নজির নেই।

কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যায় না। মোহাম্মদ হোসেন যে কাজ করে অন্যদের তা কল্পনায় ও থাকে না যে তিনি এমন কিছু করে চমক দেখান। পাশের ওয়ার্ডে যখন কোটি কোটি টাকা হাওয়ায়উড়ে তখন তিনি ব্যস্ত তার সেবামুলক কাজ নিয়ে। কোনো দিন উঁকি দিয়েই দেখেননি কি হয় সেখানে। আর তাই এখন তার সুনাম চারপাশে।

বাংলাদেশের আলো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউসিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, সমাজে মানুষের সেবা করার জন্য অর্থ আর পেশীশক্তির প্রয়োজন হয় না, শুধু প্রয়োজন বিপদে-আপদে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর মতো সুন্দর মানসিকতা। সরকারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা থেকে পিছিয়ে পড়া ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে গড়ে তুলতে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এবার পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে কাজ করে যেতে চাই। তবে স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে প্রশংসা আর বাহবা পেতে আমি কাজ করি না। অর্পিত দায়িত্ব পালনে সব সময় সচেষ্ট আছি এবং থাকব। তিনি বলেন, আমার আত্মার সাথে এখানকার মানুষের সম্পর্ক। আমি কোন অন্যায়, দুর্নীতি করিনা, মানুষের উন্নয়ন আর সমস্যা
সমাধানে নিজেকে ব্যস্ত রাখি।

বিআলো/শিলি