অবহেলা আর নোংরায় বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে
জুয়েল চৌধুরী, হবিগঞ্জ : চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে নোংরা পরিবেশ, দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার ঘটছে।
এতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে শিশু, বৃদ্ধ ও দুর্বল রোগীদের মধ্যে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ডে মেঝেতে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। ব্যবহৃত স্যালাইনের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য বিছানার নিচে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক জায়গায় দিনের পর দিন মেঝে মোছা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। হাসপাতালের টয়লেটগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। কোথাও পানি জমে আছে, কোথাও তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
নিয়মিত পরিস্কারের কোনো চিহ্ন নেই। অনেক রোগী ও স্বজন জানান, টয়লেট ব্যবহার করা তো দূরের কথা, ভেতরে প্রবেশ করাই কষ্টকর। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র শিশু ওয়ার্ডে। যেখানে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে শিশুদের চিকিৎসা পাওয়ার কথা, সেখানে উল্টো নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে ধুলো-ময়লা, বিছানায় দাগ, মাছি ও মশার উপদ্রব স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। একজন শিশু রোগীর অভিভাবক বলেন, শিশু নিয়ে হাসপাতালে আসছি সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে মনে হচ্ছে আরও বড় অসুখে পড়বে। ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিস্কার হয় না। টয়লেটে ঢোকাই যায় না।
হাসপাতালে নির্ধারিত সংখ্যক ক্লিনার থাকলেও বাস্তবে তাদের কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ে না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্লিনার নিয়মিত ডিউটিতে থাকেন না। আবার কেউ কেউ থাকলেও নামমাত্র কাজ করেন। তদারকির অভাবে নোংরা জমতেই থাকে। একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্লিনারদের দেখাই যায় না।
সকালে একটু ঝাড়ু দিলেই দায়িত্ব শেষ। সারাদিন নোংরা জমে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালের এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। অপরিষ্কার পরিবেশে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চর্মরোগসহ হাসপাতাল-সংক্রমিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক জানান, পরিচ্ছন্নতা চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওয়ার্ড নোংরা থাকলে রোগীর সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের নীরবতা ও উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
অথচ এমন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ক্লিনিং ব্যবস্থার তদারকি জোরদার, ক্লিনারদের নিয়মিত কাজ নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল।
বিআলো/আমিনা



