অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা মেঘনায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন ধসে পড়ার শঙ্কা
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : মেঘনা উপজেলার ৪৭ নং বল্লভের কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবনের ভীম গতকাল গভীর রাতে ধসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সময় স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটির ভীম ভেঙে পড়েছে। ফলে পুরো ভবন এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রায় ১১ বছর ধরেই বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ক্লাস চলাকালে যদি এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত তাহলে দায় কে নিতো? অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সন্তানদের ঝুঁকির মধ্যে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে স্কুল ভবনের এই করুণ অবস্থার কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রুবিনা বেগম নামের একজন অভিভাবক বলেন, রাতে ভীম পড়েছে বলেই আমাদের বাচ্চাগুলো বেঁচে গেছে।
দিনে হলে কী ভয়াবহ অবস্থা হতো ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। ভোটের সময় সবাই আশ্বাস দেয় কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে কেউ পাশে থাকে না। অন্য অভিভাবক সোবান মিয়া বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ করতে হবে। আতঙ্ক নিয়ে বাচ্চারা কীভাবে পড়াশোনা করবে আর শিক্ষকরা কীভাবে পাঠদান করবেন? অভিভাবক মোহাম্মদ শেখ আলম দ্রুত বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এবং বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আমি বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করছি। স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। নতুন ভবনের জন্য একাধিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আপাতত এই ভবনে পাঠদান সম্ভব নয়। ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে অস্থায়ীভাবে একটি টিনশেড ঘরে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, আমি নির্বাচনী কাজে কুমিল্লা জেলায় মিটিংয়ে আছি।
এ বিষয়ে এখনো কেউ আমাকে জানাননি। ফিরে এসে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো। এলাকাবাসী দ্রুত নিরাপদ স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
বিআলো/আমিনা



