আইনি লড়াই মাত্র শুরু: ট্রাম্প শিবির

আইনি লড়াই মাত্র শুরু: ট্রাম্প শিবির

বিশ্ব সংবাদ :যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে আগেই আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ক্ষমতাসীন ট্রাম্প শিবির। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয় কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ তারা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার এখনও অনেক বাকি। আইনি লড়াই মাত্র শুরু হয়েছে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও ফক্স নিউজের।


এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেইলি ম্যাকএনানি বলেন, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় রিপাবলিকান পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার দেয়া হয়নি; বরং কর্মকর্তারা ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ভুলভাল ব্যালট ঠিক করে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।


নির্বাচনে তিনি কারচুপির অভিযোগও তোলেন। তবে অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। ম্যাকএনানি এমন দাবি তুললেও ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে ভিন্ন কথা।


পেনসিলভানিয়া রাজ্যের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে ট্রাম্পের প্রচার শিবির। ট্রাম্পের মুখপাত্র কেইলি ম্যাকএনানি বলেন, আইনি লড়াই শুধু শুরু হয়েছে মাত্র। ফিলাডেলফিয়া এনকোয়ারার বলছে, কেন্দ্রে উভয় দলের পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভোট গণনার টেবিলের ১০০ ফুট দূরে ছিলেন তারা।


এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কৌঁসুলিদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভোট গণনায় অস্বাভাবিকতার তদন্ত করতে সোমবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল কেন্দ্রীয় আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন।


সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ভোট পুনর্গণনার অনুরোধ করার শতভাগ অধিকার রয়েছে।


সংবিধানের আলোকে সংবাদমাধ্যমগুলোর এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি লড়াই চলাকালে নির্বাচনী প্রচারণার মতো সভা-সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জর্জিয়া, অ্যারিজোনা ও পেনসিলভানিয়ায় ভোট পুনর্গণনা পর্যবেক্ষণে দল পাঠানো হয়েছে।


কারচুপির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ : বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও নির্বাচনে পরাজিত রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের বক্তব্য: ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে।


দেশজুড়ে বিভিন্ন অ্যাটর্নির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে উইলিয়াম বার লেখেন, যেহেতু আমাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তাই আমি নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণার আগেই ভোট সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতার তদন্ত করার এখতিয়ার আপনাদের দিচ্ছি।
যদি এমন কোনো গুরুতর অস্বাভাবিকতার অভিযোগ থাকে, যা কোনো রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে পারবে বলে আপনাদের ধারণা, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।


নির্বাচনের ফলাফল ও ভোট গণনা বিষয়ে তদন্ত সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। ভোট গণনা সম্পূর্ণ শেষ হওয়া ও ফলাফল নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ যাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের দায়িত্ব।


কিন্তু উইলিয়াম বার এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, এতদিন ধরে চলে আসা রীতিগুলো আসলে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নয়। গুরুতর অভিযোগকে সাবধানতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে এবং আন্দাজ ও নিছক ধারণার ওপর ভিত্তি করে ওঠা অভিযোগ কখনও কেন্দ্রীয় তদন্তে জায়গা পাবে না।


সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর ও ট্রাম্পের কড়া সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পের উচিত নয় পরাজয় মেনে নেয়া।কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তারা ট্রাম্প সমর্থক ও রিপাবলিকান নেতাদের প্রতি ফল প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ ন জানাচ্ছেন।


ট্রাম্পের এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, পরাজয় স্বীকার করার জন্য ট্রাম্পের আরও অপেক্ষা করা উচিত। একই অবস্থানে রয়েছেন মিজৌরির সিনেটর রয় ব্লান্ট, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জিলিয়ানি, ফ্লোরিডার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ও প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা কোরি লেভানডোভস্কি ও ডেভিড বোসির মতো নেতারা।


বিআলো/শিলি