আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিল
এইচ আর হীরা, বরিশাল: ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অগ্রহায়ণের মাহফিল লাখো মুসল্লির তওবা–ইস্তেগফার ও রোনাজারিতে সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৯টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলা।
মাহফিল উদ্বোধন করেন চরমোনাই পীর, আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ হজরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাদ জোহর তাঁর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়।
আখেরি মোনাজাতে চরমোনাই পীর জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মামলাবাজদের অপতৎপরতা থেকে দেশকে রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করেন।
সমাপনী বয়ানে তিনি বলেন, দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিই সব পাপ ও অনিয়মের মূল উৎস। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের দুর্নীতি এবং ফ্যাসিবাদেরও শেকড় রয়েছে এখানেই। তিনি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে তাক্বওয়া ও আল্লাহভীতির পথে চলার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, মানুষ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানির পথে ধাবিত হচ্ছে। রাগ নিয়ন্ত্রণ, সকাল–সন্ধ্যা জিকির, গিবত পরিহার, নেশাজাত দ্রব্য বর্জন, পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ তৈরি এবং নিয়মিত তালিম–হালকায় অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আমিত্ব, অহংকার, হিংসা–বিদ্বেষ ত্যাগ করে চরিত্র শুদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।
মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চরমোনাই পীর প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, আলেম সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পরে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মুরিদদের তওবা করান।
আখেরি মোনাজাতে ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, ভারত, সিরিয়া ও বিশ্বের সব নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
এ বছর মাহফিলে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম সাতটি মূল বয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন।
বিআলো/ইমরান



