ইউজিসির তালিকা প্রকাশ 

ইউজিসির তালিকা প্রকাশ 

*১৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা
*অবৈধ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা
*অনুমোদিত এক প্রোগ্রামের নামে একাধিক প্রোগ্রাম
*একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মালিকানা দ্বন্দ্ব
*শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পায়নি ৬ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষ প্রতিনিধি: অবৈধ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, অনুমোদন নেই এমন প্রোগ্রাম চালু রাখা এবং মামলাসহ নানা সমস্যা রয়েছে-এ রকম ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ (আপডেট) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। 

ইউজিসির ওয়েবসাইটে এই ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশে সতর্কতা হিসেবে লাল তারকা চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। ভর্তি মৌসুম সামনে রেখে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করতেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

এর আগে গত ২ জুন জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, রাজধানীতে বেসরকারি ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া অবৈধ ক্যাম্পাস রয়েছে আরো ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। দেশে বর্তমানে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন আছে।

সূত্র জানায়, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশে লাল তারকা চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাই খোঁজ-খবর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অগ্রসব হতে হবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এই সতর্ক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ভর্তিতে ইউজিসি আর কোনো দায় নিবে না। 

এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইউজিসির (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা রয়েছে তা সম্প্রতি আপডেট করে ইউজিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশে লাল তারকা চিহ্ন প্রদান করা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অননুমোদিত ক্যাম্পাস/প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে ইউজিসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বেসরকারি প্রাইম ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, সবার জন্য প্রযোজ্য একটা ইউনিফর্ম সিস্টেম থাকা উচিত। অনিয়ম করলে ছোট-বড় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেই যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।   

অবৈধ ভবনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি।

৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অনুমোদনহীন প্রোগ্রাম : নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি প্রোগ্রামের অনুমোদন নিয়ে সেই প্রোগ্রামের আড়ালে আরো ১০টি প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করে ইউজিসি।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত প্রোগ্রামগুলো হলো- বিবিএ ইন জেনারেল, বিবিএ ইন ফিন্যান্স, বিবিএ ইন এইচআরএম, বিবিএ ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, বিবিএ ইন মার্কেটিং, বিবিএ ইন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, বিবিএ ইন অ্যাকাউন্টিং, বিবিএ ইন ইকোনমিক্স, বিবিএ ইন এন্টারপ্রেনিউরশিপ এবং বিবিএ ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট।

গণবিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বিবিএ, পরিবেশ বিজ্ঞান, এমবিবিএস, বিডিএস এবং সাইকো থেরাপি প্রোগ্রামগুলো। হাইকোর্ট ডিভিশন ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি এসব প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ইন কুরআনিক সায়েন্স অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ প্রোগ্রামটি অননুমোদিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মালিকানা দ্বন্দ্ব : ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে মালিকানা দ্বন্দ্ব রয়েছে। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কোনো ঠিকানা নেই ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইবাইস ইউনিভার্সিটির দুজন মালিক একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এরমধ্যে একটি গ্রুপ ধানমন্ডি, অন্য গ্রুপ উত্তরায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একসময় কোর্টের রায়ে ধানমন্ডি বাড়ি নম্বর-২১/এ, সড়ক নম্বর-১৬ (পুরাতন-২৭), ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯ ঠিকানাটি কমিশনের ওয়েব সাইটে আপলোড করা হয়েছিল। ওই স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা ভ্যাকেট হয়ে যাওয়ায় ইবাইস ইউনিভার্সিটির ওই ঠিকানা কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে বাতিল করা হয়। তাই বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কোনো ঠিকানা নেই।

দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লায় শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের Civil Petition for Leave to Appeal No. 1967/2018 (out of Writ petition no. 4263/2018) এর আদেশ বলে দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার ঠিকানা এবং প্রোগ্রামগুলো ইউজিসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশনা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। কমিশন থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর অনুমতি এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমতি পায়নি ৬ বিশ্ববিদ্যালয় : সরকার কর্তৃক নতুন করে অনুমোদন দেওয়া ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি পায়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে - রূপায়ন এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, আহসানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, মাইক্রোল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং আর টি এম আল কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২০ এর ধারা ১৩ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রদত্ত সাময়িক সনদে উল্লেখিত স্থানে/শহরের বাইরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু রাজধানীতে বেসরকারি আটটি বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ পরিদর্শনপূর্বক তদন্ত করার জন্য অতি সম্প্রতি ইউজিসি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিআলো/ইলিয়াস