একক সিদ্ধান্তে আমদানি-রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন: বাণিজ্য সচিবের আদেশে উদ্বেগ, প্রতিবাদ সংগঠনের
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে হঠাৎ পরিবর্তন এনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। এক্সপোর্ট ও ইমপোর্ট লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে এসোসিয়েশন বা চেম্বারের সদস্যপদ বাধ্যতামূলক থাকার নিয়ম বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে। এ সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।
এ বিষয়ে এক প্রতিবাদী বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন সচিব কীভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এমন নীতিগত বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—তা বোধগম্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসোসিয়েশন ও চেম্বারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কোনো ধরনের আলোচনা বা অংশীজনদের মতামত ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের এসোসিয়েশন ও চেম্বার সংগঠনগুলো মূলত সদস্যদের চাঁদার ওপর নির্ভর করেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সদস্যপদ বাধ্যতামূলক না থাকলে এসব সংগঠনের আয় বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ব্যবসা খাতের শৃঙ্খলা, বিরোধ নিষ্পত্তি ও নীতিগত সমন্বয়ের ওপর।
সংগঠনের নেতারা মনে করেন, এ ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হলে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ও বাধাগ্রস্ত হবে।
এমতাবস্থায়, বাণিজ্য সচিব ও বাণিজ্য উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হোক। বিষয়টি জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হওয়ায় পরবর্তী সরকার কর্তৃক পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দাবি উপেক্ষিত হলে দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।
বিআলো/তুরাগ



