ওয়ার্ল্ড স্টেম ইনভেনশন ইনোভেশন ২০২৬-এ বাংলাদেশের দাপট, স্বর্ণসহ একাধিক পদক জয়
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন
মো: আশিকুর রহমান: বিশ্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় আবারও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিল বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা “ওয়ার্ল্ড স্টেম ইনভেনশন ইনোভেশন ২০২৬”-এ স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকরা। এই সাফল্য প্রমাণ করে—উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে নেই; বরং সমানতালে এগিয়ে চলছে বিশ্বের সঙ্গে।
বাংলাদেশ ইয়াং সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটি (BYSIS)-এর নেতৃত্বে “বেঙ্গল স্পার্ক ১.০” ব্যানারে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় হাজারো প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাটি মালয়েশিয়ার বুক অব রেকর্ডস-এ রেকর্ডসংখ্যক অংশগ্রহণকারী নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রতিযোগিতার কম্পিউটিং, এআই ও ডিজিটাল ইনোভেশন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো বিচারকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। এ ক্যাটাগরিতে সেরা উদ্ভাবনী প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশ দল অর্জন করে স্বর্ণপদক ও বিশেষ সম্মাননা। পাশাপাশি একই ক্যাটাগরিতে সেরা পাঁচে অবস্থান করে বাংলাদেশ আরও দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করে, যা একক ক্যাটাগরিতে দেশের জন্য একটি বিরল ও ঐতিহাসিক সাফল্য।
এছাড়াও রোবোটিক্স ও ড্রোন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ অর্জন করে—
🥇 ১টি স্বর্ণপদক
🥈 ১টি রৌপ্য পদক
🥉 ১টি ব্রোঞ্জ পদক
বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিভাগ হিসেবে পরিচিত ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ দল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে রৌপ্য পদক অর্জনে সক্ষম হয়।
এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজক Malaysia Young Scientists Organisation (MYSO)-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ও BYSIS-এর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন-কে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার দাতুক ওয়ান জাইদি ওয়ান আব্দুল্লাহ এবং MYSO-এর সভাপতি ড. রাজমি বিন আব্দু রাজ্জাক।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন BYSIS-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাদেকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্ভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এই সাফল্য কেবল একটি প্রতিযোগিতার অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশের পথে এটি এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিআলো/তুরাগ



