করোনা আক্রান্ত চার সচিব

করোনা আক্রান্ত চার সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: টিকা নিয়েও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব ও তথ্য ও সম্প্রচার সচিব খাজা মিয়াসহ মোট চার সচিব করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার তার কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবদুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি ভালো আছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তার উপসর্গ থাকলেও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আবদুল মান্নানের ছোট ছেলে কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে সেখান থেকে তিনি করোনায় সংক্রমিত হন। উল্লেখ্য, আবদুল মান্নান করোনার প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সদস্য (সচিব) করোনায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা হলেন- একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম ও ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মামুন-আল-রশীদ।

বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে ড. শামসুল আলম হাসপাতালে ও মামুন-আল-রশীদ বাসায় থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী প্রধান) মোহাম্মদ বারিউল করিম খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্যার (মামুন-আল-রশীদ) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জ্বর ও মাথাব্যথা আছে। ২৮ মার্চ করোনা পজিটিভ আসে। প্রথমে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। স্যারের অক্সিজেনের সেচুরেশন এখন পর্যন্ত ভালো। গায়ে জ্বর আছে। তিনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বাসা থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসক বললে স্যারকে আবারও হাসপাতালে নেওয়া হবে। ’

অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব খাজা মিয়া। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য সচিবের একান্ত সচিব মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

তিনি জানান, সচিব স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।

খাজা মিয়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের দশম ব্যাচের সদস্য হিসেবে ১৯৯১ সালে ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। চাকরিজীবনে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিলেটের বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথ থানায় সহকারী কমিশনার ছিলেন।

এরপর ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নরসিংদী জেলায় এনডিসি হিসেবে কাজ করেন। রাজবাড়ী, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলায় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৩ সালে চাঁদপুরের মতলব উপজেলা নির্বাহী অফিসার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ও উপসচিব হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সাল থেকে চার বছর তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হিসেবে ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২৮ নভেম্বর ২০১৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সাল থেকে ২৬ নভেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সবশেষ ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বরে সচিব হিসেবে পদায়ন করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

বিআলো/শিলি