কুমিল্লা-১-এ ধানের শীষের জোয়ার, ৪৯ হাজার ভোটে মোশাররফের জয়
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার, দাউদকান্দি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের ফলাফল শুধু একটি আসনের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্রোতেরই প্রতিফলন। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৯ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৮০৬—যা রাজনৈতিকভাবে একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রেজা আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৬ জন। ১৪৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ভোটের হার দাঁড়ায় ৫৫.৭১ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় আড়াই লাখের কাছাকাছি ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বশির আহমেদ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৯ ভোট। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা শতক ও সহস্রের ঘরে সীমাবদ্ধ থাকেন, যা মূলত এই আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরিবেশ ছিল মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি গণতান্ত্রিক চর্চার ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ধীরগতি দেখা গেলেও দিনশেষে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার নয়; এটি স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবস্থান এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশার সমন্বিত প্রতিফলন। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা গেলেও পরাজিত পক্ষ থেকেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান এসেছে—যা গণতন্ত্রের পরিপক্বতার লক্ষণ।
কুমিল্লা-১ আসনের এই রায় জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভোটাররা এখন উন্নয়ন, জবাবদিহি ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব চান। নির্বাচনের পরবর্তী অধ্যায় হবে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। জনগণের এই আস্থার প্রতিদান কীভাবে দেওয়া হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বিআলো/তুরাগ



