কৃষি ও পরিবেশে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এআইপি মতিন সৈকতের ঝুলিতে ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড
দাউদকান্দির কৃতিসন্তান থেকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার: বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় যাঁর চিন্তা, গবেষণা ও কর্মযজ্ঞ যুগের পর যুগ ধরে গ্রামীণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে—সেই পরিবেশবিদ ও কৃষি উদ্ভাবক এআইপি মতিন সৈকত পেলেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে দীর্ঘদিনের নিরলস অবদানের জন্য তাঁকে প্রদান করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ সম্মাননা ও ফেলোশিপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (ICALDRC)-এর ভাষাবিজ্ঞান ইউনিট আয়োজিত “মনন সমৃদ্ধকরণ ও জীবন অনুপ্রেরণায় ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাব” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসার ইউ আহমেদ।
এছাড়াও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়নিজ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের অধ্যাপক লিউ ইউ ইউনলি বক্তব্য রাখেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ICALDRC-এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক লুৎফর রহমান জয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, বিদেশি অতিথি ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, অনুন্নত ও স্বল্প উৎপাদনশীল কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই ও লাভজনক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে মতিন সৈকতের উদ্ভাবনী চিন্তা ও স্বল্প ব্যয়, কৃষকবান্ধব পদ্ধতি দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাঁর উদ্যোগ গ্রামীণ কৃষক সমাজের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে—এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তাঁকে আন্তর্জাতিক এই সম্মাননা ও ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
পরিবেশবিদ মতিন সৈকত বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদের সদস্য ও লাইফ মেম্বার এবং বাংলাদেশ পরিবেশ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ব্যবহার ও সম্প্রসারণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুইবার জাতীয় কৃষি পদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন করেন।
কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি সিআইপি পদমর্যাদায় এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (এআইপি) খেতাবও লাভ করেছেন।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বিষমুক্ত ফসল ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খাল–নদী ও জলাধার সংরক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের এই কৃতিসন্তানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের টেকসই কৃষি ও পরিবেশ আন্দোলনে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
বিআলো/তুরাগ



