খাঁচায় মাছ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বরিশালের মৎস্যজীবীরা
এইচ আর হীরা, বরিশাল ব্যুরো : কম পুঁজিতে বেশি লাভের সম্ভাবনায় বরিশালে নদীর মুক্ত জলাশয়ে খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভাসমান এই আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকদের মধ্যে। এর ফলে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল নগরীসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে প্রথমবারের মতো মুক্ত জলাশয়ে খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। জিআই পাইপ, ড্রাম ও নেট দিয়ে তৈরি প্রতিটি খাঁচা নির্মাণে খরচ পড়ছে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। একটি খাঁচায় সর্বোচ্চ এক হাজার পর্যন্ত মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।
বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের মৎস্যচাষি মো. হালিম হাওলাদার জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি কীর্তনখোলা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে লাভবান হয়েছেন। অপর এক চাষি জানান, খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, সরপুঁটি ও কার্প জাতীয় মাছ চাষ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কীর্তনখোলা নদীসহ বরিশাল জেলার বিভিন্ন নদীতে প্রবাহমান পানিতে খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয় এবং মাছের স্বাদও ভালো থাকে। ফলে বরিশালে খাঁচায় মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত বছর কয়েকটি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করা হয়। চলতি বছর তা বাড়িয়ে ১০টি খাঁচায় উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নদীর মুক্ত জলাশয়ে খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল জেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, “খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষে শুধু মানুষের আয় বাড়ছে না, নদীরও উপকার হচ্ছে। খাঁচার আশপাশে দেশি মাছ আশ্রয় নেয়, খাবার পায়, বড় হয় এবং প্রজননও ঘটায়। এটি নদীর সঠিক ব্যবহারের একটি কার্যকর উপায়।” তিনি আরও জানান, খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বরিশালের নদী-নালাভিত্তিক প্রাকৃতিক পরিবেশ খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে স্বল্প পুঁজিতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
বিআলো/ইমরান



