গণভোট ও নির্বাচনের শত্রু-মিত্র
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই এর শত্রু-মিত্রদের অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। গণভোট ও নির্বাচনের মিত্রদের চেনা-জানা সহজ। কিন্তু শত্রু চেনা বড় কঠিন। মিত্ররা প্রকাশ্যেই নির্বাচনের জানান দিচ্ছে, আর শত্রুরা অপ্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র আঁটছে। মিত্ররা যেহেতু প্রকাশ্য- তাদের কার্যকলাপ ও বক্তৃতা-বিবৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করা যায়। শত্রুরা গোপনে যেসব কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা বোঝা সত্যিই দুষ্কর। শত্রু-মিত্রেরও আকার প্রকার আছে। শত্রুদের কেউ কেউ প্রতিবেশী। তাদের চেনা সহজ। আবার কেউ কেউ সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ের। তাদের বুঝতে পারা অত সহজ নয়। দেশজ শত্রুদেরও কেউ কেউ মিত্রের ভান ধরে।
যারা রাজনীতিকে মনে করেন ছলা-বলা-কলা, তাদের জন্য স্বৈরাচার, মিথ্যাচার, অন্যায় ও অত্যাচার কিছুই অসম্ভব নয়। কিন্তু যারা রাজনীতিতে ন্যূনতম আদর্শ ধারণ করেন, তাদের জন্য শত্রু-মিত্র চেনা অনেকসময় কঠিন বিষয়।
আমরা একটি সংকটকাল অতিক্রম করছি। দীর্ঘ ১৭ বছরের সেনাচার ও স্বৈরাচারের সময় অতিক্রম করে একটি পরিবর্তনকালীন সময়ের প্রান্তসীমায় উপনীত হয়েছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ জনগণ একটি আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়। এটি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন এর আন্দোলন ছিল না। ‘রাজার পর রাজা আসবে যাবে, বাংলার সিংহাসন খালি নাহি রবে’-চাওয়াটা এমন ছিল না। মানুষ প্রকৃত পরিবর্তন চেয়েছিল। সেটি করতে হলে দেশের খোলনলচে পাল্টে দিতে হবে। এই পাল্টানোর নাম সংস্কার। গণ-অভ্যুত্থান যদি সর্বাত্মক হতো, তাহলে ‘বিপ্লব’ নামক তত্ত্ব দ্বারা আমরা সবকিছু ওলটপালট করে ফেলতে পারতাম। এখন যেহেতু সেই পুরনো কাঠামোতেই আমাদের হাঁটতে হচ্ছে, সুতরাং আমরা বলছি মেরামত। মেরামত শব্দটি দিয়ে বিষয়টির গভীরতা নষ্ট হয়। তবুও রাষ্ট্র মেরামত শব্দটি জনপ্রিয় হয়েছে। যাই হোক, সেই প্রত্যাশিত সংস্কার নিয়েই যত আপত্তি-বিপত্তি। যারা সরাসরি গণ-আন্দোলন পরিচালনা করেছে, রক্ত দিয়েছে, আহত হয়েছে এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের সবার দাবি সংস্কার। আবার ডান ও বাম ধারার এমন সব রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা আদর্শিকভাবেই অনুভব করে, মেরামত বা সংস্কার ছাড়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন অসম্ভব। অন্য একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে করে, একটি রাজনৈতিক সরকারের উপস্থিতি ছাড়া সংস্কার বা মেরামত কোনোটিই সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে তারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছিলেন। একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য রাজনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অবশেষে মিথস্ক্রিয়াসম্পন্ন হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ অভিমান, অভিযোগ ও আন্দোলন অবশেষে নির্বাচনে অবতীর্ণ হতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী নির্বাচন এলেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যদিও বিগত ১৭ বছরে তিনবার হোঁচট খেয়েছে তাদের এই আনন্দ, তবুও আশা-আনন্দে বিগত ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় মেতে উঠেছে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, দেশের কোটি কোটি মানুষ এতে একাত্ম। কিন্তু অপর একটি গণবিরোধী অংশ, যাদের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পতন ও পলায়ন করতে হয়েছে, তারা কোনোক্রমেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। বিগত অর্ধশতাব্দীতে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রমাণিত, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই তাদের নেই। সুতরাং ‘হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনো খানে’ তাদের পথ খুঁজতে হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিভেদের বেড়াজালে আটকে দিয়ে তারা জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে একটি প্যাকেজ ডিলের আওতায় লন্ডনের ইকোনমিকসের ভাষায়- ‘বস্তা বস্তা ভারতীয় টাকা ও কূটকৌশলে’ তারা জয়লাভ করে। আর যাতে একটি অবাধ নির্বাচনের সম্মুখীন হতে না হয়, সে জন্য তারা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’ বাতিল করে পাতানো নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। এখন যখন ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে, ততই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের বহিস্থ মিত্র এখন তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জনগণের বিরোধী অবস্থান। নরেন্দ্র মোদি নিজেই বলেছেন, হাসিনাকে থামানোর এখতিয়ার তার নেই। তাই তাদের সরকার, বিরোধী দল ও সাউথ ব্লক নামের ব্যুরোক্র্যাসি একত্রিত হয়েছে, যাতে বাংলাদেশে একটি যথার্থ নির্বাচিত সরকার কায়েম হতে না পারে। তারা আগে থেকেই বলছে, ‘ক’ পার্টি জিতবে জনতার ভোটে আর ‘খ’ পার্টিকে জেতানো হবে নির্বাচন প্রকৌশলে। অর্থাৎ- বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে একটি ক্লেদাক্ত চেহারা প্রকাশ করতে চায় তারা। মোদি সরকার বারবার অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলছে। তার মানে হলো- তাদের একান্ত বিশ্বস্ত দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে না নিলে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না। একটি দল ও এর নেতৃত্ব যারা জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং পৃথিবী স্বীকৃত গণ-আন্দোলনের মুখে বিদায় নিয়েছে, তারা কীভাবে নির্বাচনের অধিকার দাবি করতে পারে? ভারত নাকি বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। সেখানে নীতির্নির্ধারণী পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় জনগণের পরিবর্তে একটি ধিকৃত নেতৃত্ব এবং একটি পাশবিক রাজনৈতিক দল কিভাবে আমলে আসে- কূটনীতিকদের কাছে সেটিই বিস্ময়কর!
নির্বাচন বানচালের জন্য বাংলাদেশে তারা দ্বিমুখী কার্যক্রম শুরু করেছে। একটি অংশ সশস্ত্র। ভায়োলেন্স তাদের সম্বল। হাদির খুনি ভারতে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণ ভাবতেই পারে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে তাদের মদদ রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সীমান্তে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অস্ত্র আসছে। দেশের অভ্যন্তরে বিক্ষিপ্তভাবে বোমা হামলা ও নাশকতার চেষ্টা চলছে। অপর অংশ রাজনৈতিক লেবাসে অরাজনৈতিক তৎপরতায় লিপ্ত। আমরা অনেকবার বলেছি, আগে আওয়ামী লীগের বি-টিম ছিল জাতীয় পার্টি। এখন জাতীয় পার্টির বি-টিম হচ্ছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির কথা ও কাজে সে মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। জি এম কাদের বলেছেন, তারা গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেবেন। স্পষ্ট, আওয়ামী লীগের সেই বস্তা বস্তা টাকা এবং প্রতিবেশীর মদদই তাদের সম্বল। মাঝখানে উলুখাগড়ার মতো আওয়ামী লোকজন নিয়ে তাদের শক্তি সঞ্চয়ের অপচেষ্টা।
একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী ভোটাররা তিন ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ মনে করে, যেহেতু ভবিষ্যৎ সরকার গড়বে বিএনপি, সুতরাং বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকাই নিরাপদ। আমিরে জামায়াত প্রথমেই তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে কিছুটা সহানুভূতি অর্জন করেছেন। সুতরাং তাদের পক্ষেও একটি অংশ আছে। তৃতীয় অংশ স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে নিরাপত্তার সন্ধান করছে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়, তা সত্য নয়। বলা হয়, ভোটারদের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের। অভ্যুত্থানের পরে তাদের ভোটারদের সংখ্যা নিদারুণভাবে হ্রাস পেয়েছে। অনেকেই বিশেষ করে আওয়ামী প্রভাবিত চারটি জেলায় বড় বড় রাজনৈতিক দলের ছায়াতলে তারা ভোল পাল্টেছে-এরকম প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-বিগ্রহ ও বিপর্যয় ঘনিয়ে আসছে। দেশের প্রায় সর্বত্র রাজনৈতিক সহিংসতার কালো ছায়া দৃশ্যমান হচ্ছে। শেরপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জসহ অনেক জায়গায় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শেরপুরে স্থানীয় জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। এগুলো দেশবাসীসহ আমাদের সবার জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কার খবর। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের মহড়া যে দল বা গোষ্ঠীই দেখাক না কেন, তা পতিত স্বৈরাচারের আচরণই মনে করিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে দু’জন শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব অনেক। তারা যদি তাদের নেতাকর্মীদের নিরস্ত্র করতে না পারেন, ক্ষমতার আশা এমনিতেই দূরীভূত হবে। গোটা জাতি আবারো অন্য কোনো স্বৈরাচারের অধীন হয়ে পড়বে। এমন কোনো কাজ, এমন কোনো অজুহাত শত্রুদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাতে গোটা নির্বাচনই বানচাল হতে পারে।
আওয়ামী লীগের বিগত ১৭ বছরের সব কাজই ভেস্তে গেছে, এমন নয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্রিয়াশীল অংশ ‘বুদ্ধিজীবী’ অভিধায় অভিযুক্ত করা যায়। গতানুগতিকভাবে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পেছনে বুদ্ধিজীবীদের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়- এই বুদ্ধিজীবীদের গরিষ্ঠ অংশ পরবর্তীকালে ‘মুজিববাদ’ বা এ ধরনের তত্ত্বকথা দিয়ে আওয়ামী দুঃশাসনের তোষণ-পোষণ করেছে। বিগত ১৭ বছরে এই স্বার্থান্বেষী বুদ্ধিজীবীকুল ‘মুজিববর্ষ’ ইত্যাদি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ফলে তারা হয়েছে বিবেক-বর্জিত ভাঁড়। এরা নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতেও কুণ্ঠিত হয়নি। ২৪ গণ-অভ্যুত্থানের পর এরা ঘাপটি মেরে ছিল বছরখানেক। আস্তে আস্তে এরা কচ্ছপ গতিতে মুখ খুলছে। যখনই সময় সুযোগ পাচ্ছে, নারী অধিকারের নামে, গণ-অধিকারের নামে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে নানা ধরনের বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্বাচন সামনে রেখে তারা নানা তত্ত্বকথা ও গুজবের আড়ালে পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে জনমত গঠন করছে। তাদের কয়েকজন গণভোটের বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেহেতু একটি ‘সরকার’ সেহেতু তারা রাজনৈতিক জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে না। তারা ভুলে যায়, এ সরকারটি কোনো দলীয় সরকার নয়। জুলাই বিপ্লবের প্রতিভূ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব তাদের প্রতিশ্রুত ‘জুলাই সনদ’কে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া।
তথ্যপ্রযুক্তির এই বিপ্লবী যুগে কোনো কিছু গোপন রাখা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি যেমন খুশি কথা বলাও অসম্ভব নয়। আজকাল ক্যামেরা ঢ়ুকে যাচ্ছে বেডরুমেও। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যাকে সত্য, সত্যকে মিথ্যা বানানো সম্ভব। বাংলাদেশের এই নির্বাচনে ইতোমধ্যে এর প্রভাব লক্ষণীয়। এটি রোধের পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা নেই। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি।
কোনো শক্তিই অস্বাভাবিকভাবে কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না। এ ক্ষেত্রে গৃহীত ও সমর্থিত একমাত্র মাধ্যম নির্বাচন। আগামী নির্বাচনটি নিশ্চয়ই স্বৈরাচারের নির্বাচনের মতো হবে না। রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষ : সরকার, আমলাতন্ত্র, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন তৈরি হয়ে আছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে। সেখানে প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ নিজ স্বার্থ। যখনই কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থহানি ঘটে, তখন তারা অনুযোগ, অভিযোগ, এমনকি ষড়যন্ত্রের কথা বলতেও দ্বিধা করেন না। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পাইকারি সিদ্ধান্ত তাদের ইমেজের ক্ষতি করেছে।
গণভোট ও নির্বাচনের শত্রু-মিত্র নির্ণয়ের বিষয়টি বহুমাত্রিক। এখন যাকে পরম মিত্র মনে হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে সে শত্রুতে পরিণত হতে পারে। গুজব রটানো হচ্ছে, যখন কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হবে যে, তাদের ক্ষমতা লাভের সম্ভাবনা নেই- তখন তারা বেঁকে বসবে। এমনকি তারা নির্বাচন থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেবে। তাতে একটি হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হবে এবং গুজব মতে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের গদি আরো কিছু সময়ের জন্য পাকাপোক্ত হবে। এও বলা হচ্ছে, নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ যখন জয়যুক্ত হবে, তখন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদ বাড়ানোর বৈধতা অর্জন করবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো দিয়ে যদি এখানে-সেখানে নির্বাচনের দিন অঘটন ঘটানো যায়, তাহলে এই অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জুজুর ভয় হিসেবে উত্তর বাড়ির উদাহরণ তো রয়েছেই। তবে বর্তমান নির্বাচনী দিনক্ষণকে বিশ্লেষণ করে বলা যায়, এরকম অঘটন ঘটার আশঙ্কা ক্ষীণ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ক্ষমতার ভারসাম্য বলে একটি তত্ত্ব আছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এর যেমন প্রয়োগ আছে, তেমনি অভ্যন্তরীণভাবেও আছে। স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ একটি দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দুটো দলই সমানে সমান। সমানে সমানে ভারসাম্য ঘটে। দুটো দলের প্রধানই যখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাতীয় সরকারের কথা বলছেন, তখন বাংলাদেশের মানুষ আশান্বিত হওয়ার কারণ রয়েছে। সেখানে একটি মাত্র শর্ত প্রযোজ্য। গণতন্ত্রকে যদি তারা রাজনৈতিক পদ্ধতি ও জীবনাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তবেই সফলতা নিশ্চিত। মনীষী টি এইচ গ্রিন বলেন, ‘উবসড়পৎধপু সধু নব ফবভবধঃবফ রহ সধহু নধঃঃষবং, নঁঃ রঃ রিহং ঃযব ষধংঃ’.
লেখক : ড. আবদুল লতিফ মাসুম
অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
বিআলো/তুরাগ



