গুরুগ্রামের রামকৃষ্ণ মিশনে শততন্ত্রী বীণার মায়াবী সন্ধ্যা
ইরানী বিশ্বাস, দিল্লী : দিল্লীতে তখন শীতের দাপট। রবিবার ছুটির দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে সঙ্গীতপ্রেমীরা ছুটে এসেছেন গুরুগ্রামের রামকৃষ্ণ মিশনে। অনেকের মনেই তখন চা, কফির তৃষ্ণা। কিন্তু সব ভুলে অদ্ভুত এক তৃষ্ণায় মগ্ন শ্রোতা-দর্শক। কারো মুখেই টু-শব্দটি পর্যন্ত নেই। মিশনের বিবেকান্দ অডিটোরিয়াম তখন পিনপতন নিরবতা। অডিটোরিয়ামের বাইরে শীতের হাওয়া বইছে। হয়তো কোথায় গাছের ডাল থেকে টুপ করে ঝরে পড়ছে পাতা। হঠাৎই নিস্তব্ধতার বুক চিরে বেজে উঠলো কাশ্মীরি শততন্ত্রী বীণার শীতল ছন্দ।
গত ২৫ জানুয়ারি লিজেন্ডস অব ইন্ডিয়া নিবেদিত হেরিটেজ হারমনি হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আয়োজন করেন রামকৃষ্ণ মিশন। স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে শততন্ত্রী বীণা পরিবেশনা করেন পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী।
তিনি প্রথমে পরিবেশনা করেন রাগ ভীমপলশ্রী সেনিয়া ধ্রুপদী অঙ্গে দীর্ঘ্যায়িত আলাপ, জোড়, ঝালা। শেষে স্বামী বিবেকানন্দের পছন্দের কম্পোজিশনে ঝাপ তালে নিবদ্ধ রাগ বাগেশ্রীতে গান নাহি সূর্য্য নাহি জ্যোতি… পরিবেশন করেন।
স্বামীজী পাখোয়াজ বাজিয়ে নিজ গলায় গানটি শোনাতেন রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এবং বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তীকে পাখোয়াজে সঙ্গত করেন পন্ডিত মনমোহন নায়েক ও তানপুরায় সঙ্গত করেন ড্রিমি নাইস।
মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শেষে গুরুগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের সেক্রেটারী মহারাজ শান্তাত্মানন্দজী উত্তরীয় বস্ত্র এবং স্বামীজীর লেখা বই উপহার দিয়ে শিল্পীদের সম্বোর্ধিত করেন। এ দিন আরো ছিলেন বাঁশিতে কার্তিকায় বশিষ্ঠ এবং হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে অলিক সেনগুপ্ত।
বিআলো/আমিনা



