চিকিৎসকদের অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না : বিএসএমএমইউ উপাচার্য

চিকিৎসকদের অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না : বিএসএমএমইউ উপাচার্য

ইবনে ফরহাদ তুরাগঃ চিকিৎসকদের অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ।

গতকাল ৭ ফেব্রুয়ারী বুধবার বিকেলে মিন্টু রোড’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে আয়োজিত বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির ৫১তম বার্ষিক সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য কথা করেন।

তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যেখানে প্রশাসন, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিনিধি থাকবে। চিকিৎসক কোন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কি না তা এই কমিটি তদন্ত করবে। তদন্ত ছাড়া চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা হলে চিকিৎসা ব্যবস্হা ভেঙ্গে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন সংশোধন করতে হবে। বিদ্যমান অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনের কিছু জটিলতার চাইলেই অঙ্গদান করা সম্ভব যায় না। আইনি জটিলতার কারণে দেশের রোগীরা কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে কিডনি প্রতিস্থাপনে তিন লক্ষ টাকা সেটি পার্শবর্তী দেশে সেটি করতে ত্রিশ লক্ষ টাকার বেশি লাগে। দেশের চিকিৎসকরা এসব রেমিটেন্স ঠেকাতে পারবে যদি এই অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনে মানবিক ডোনেশনের ব্যবস্হা করা হয়। নারী চিকিৎসকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান বিচার প্রতি ওবায়দুল হাসান। তিনি বলেন, কোন চিকিৎসক কোখনো রোগীর মৃত্যু চান না।  কোন কারণে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেজন্য একজন চিকিৎসককে আটকিয়ে রাখলে আরও অন্য রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। ডাক্তারদের অবহেলার কারণে রোগীর মারা যাওয়ার মামলাগুলো সচেতনভাবে দেখতে বিচারকের প্রতি আহ্বান প্রধান বিচারপতির।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথ্যালমোলজীর সভাপতি  অধ্যাপক আভা হোসেন, বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক দীপক কুমার নাগ প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম মুকতাদির।

বিআলো/নিউজ