চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে থাকা বিএনপি নেতার মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তাল শহর
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু মারা গেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১২টা ২৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শামসুজ্জামান ডাবলু জীবননগর উপজেলার বসুতিপাড়ার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে এবং জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মৃত্যুর পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাকে আটক করার পর সেনাবাহিনী নির্যাতন করেছে।
বিক্ষোভের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে নেতাকর্মীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার নির্দেশ দেন। জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান কবিরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার দাবি করেছেন।
দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃতদেহ কঠোর প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একই দিন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে জানায়, রাত ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। অভিযানের সময় শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করা হয়। তার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযানে অংশ নেওয়া সেনা সদস্যরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশ নেওয়া সকল সেনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআলো/ইমরান



