চুয়াডাঙ্গা-২ আসন, শান্তি সমাবেশে তিন প্রার্থী এক মঞ্চে: ঐক্যবদ্ধ উন্নয়নের অঙ্গীকার
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাকের পার্টির উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার দর্শনা মুক্তমঞ্চে এই শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যতিক্রমধর্মী সমাবেশে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের সংসদীয় প্রার্থী।
তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুহুল আমিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব। সমাবেশে তিনজন প্রার্থীই চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সহিংস রাজনীতির পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষি ও সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে পিছিয়ে রয়েছে। নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক না কেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে গিয়ে মানুষের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে হবে।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সকল রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের নিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। সহিংস রাজনীতি নয়, তারা উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে।
এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।
আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়তে চাই যেখানে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি যৌথ পরিচালনা করেন জাকের পার্টির জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ খান যুবরাজ এবং কেন্দ্রীয় পরিষদ জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া। তারা বলেন, এই শান্তি সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে শান্তি, সহাবস্থান ও উন্নয়নের বার্তা জনগণের কাছে পৌছে দেওয়া এবং একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা। সমাবেশে জাকের পার্টির নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিআলো/আমিনা



