• যোগাযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    জাহান্নামের কঠিন আযাব: মাস্টার রফিকুল ইসলাম রানা 

     dailybangla 
    16th Oct 2024 8:58 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    জাহান্নাম শব্দটি আরবি। এর অর্থ শাস্তির জায়গা। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য, পরীক্ষা শেষে ফলাফল দিবেন হাশরের মাঠে। যারা আমলে সলেহ বা নেক কাজ করেছেন তাদের জায়গা চির সুখের জান্নাত। আর যারা দুনিয়ায় আল্লাহর হুকুম মতো চলেনি নাফরমানি করেছেন তাদের জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। আল্লাহ তা’য়ালা জাহান্নামের পরিচয় তুলে ধরেছেন সূরা হুমাযাহ (৪-৯) নাম্বার আয়াতে : ‘কখনও না! তারা নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। তুমি কি জানো হুতামা কি? আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন। যা অন্তরসমূহকে গ্রাস করে। তা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। অতি উঁচু স্তম্ভসমূহে।

    ব্যাখ্যায় সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী র. বলেন, হুতামা মানে ভেঙ্গে ফেলা, পিষে ফেলা ও টুকরো টুকরো করে ফেলা। জাহান্নামকে হুতামা নামে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে এই যে, তার মধ্যে যা কিছু ফেলে দেয়া হবে তাকে সে নিজের গভীরতা ও আগুনের কারণে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেবে।

    পবিত্র কোরআনে আর কোথাও জাহান্নামের আগুনকে আল্লাহর আগুন বলা হয়নি। এখানে এই আগুনকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে কেবলমাত্র এর প্রচণ্ডতা ও ভয়াবহতারই প্রকাশ হচ্ছে না। বরং এই সঙ্গে এও জানা যাচ্ছে যে, দুনিয়ার ধন-সম্পদ লাভ করে যারা অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় মেতে ওঠে তাদেরকে আল্লাহ কেমন প্রচণ্ড ঘৃণা ও ক্রোধের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। এ কারণেই তিনি জাহান্নামের এই আগুনকে নিজের বিশেষ আগুন বলেছেন এবং এই আগুনেই তাকে নিক্ষেপ করা হবে।

    দুনিয়ায় আগুন জ্বালানোর জন্য আমরা লাকড়ি ব্যবহার করে থাকি জাহান্নামের আগুনের লাকড়ি কি হবে এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা বাক্বারা ২৪ নং আয়াতে বলেন , কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো আর নিঃসন্দেহে কখনই তোমরা এটা করতে পারবে না, তাহলে ভয় করো সেই আগুনকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা তৈরি রাখা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য।

    তাফছিরে ইবনে কাসিরের মধ্যে বলেন, এখানে পাথর দ্বারা কালো গন্ধক পাথর বোঝানো হয়েছে। গন্ধক দিয়ে আগুন জ্বালালে তার তাপ ভীষণ ও স্থায়ী হয়। আসমান যমীন সৃষ্টির সময়ই আল্লাহ্ তা’য়ালা কাফেরদের জন্য তা সৃষ্টি করে প্রথম আসমানে রেখে দিয়েছেন। কোনো কোনো মুফাসসির বলেন, এখানে ওই সমস্ত পাথর উদ্দেশ্য, যেগুলোর ইবাদত করা হয়েছে। [ইবনে কাসীর] আর জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ এক ভাগ দিয়ে শাস্তি দিলেই তো যথেষ্ট হতো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, জাহান্নামের আগুন তোমাদের আগুনের তুলনায় ঊনসত্তর গুণ বেশি উত্তপ্ত (মুসলিম ২৪৮৩, বুখারী ৩২৬৫)

    জাহান্নামের সংখ্যা : জান্নাত একটি আর জাহান্নামও একটি। সুরা হিজরের ৪৪ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, দরজা আছে প্রত্যেক দরজার জন্য এক একটি পৃথক দল আছে। তবে জান্নাত এবং জাহান্নামের অনেকগুলি স্তর রয়েছে। জান্নাত শব্দটি কোরআনে এবং হাদিসে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে ওইসব স্তরগুলির দৃষ্টিকোণ থেকে। যেমন বলা হয়েছে, জান্নাতের ১০০টি স্তর রয়েছে। প্রতি স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের ন্যায়। সর্বোচ্চ হলো ফেরদৌস। তার উপরে হলো আল্লাহর আরশ। যেখান থেকে জান্নাতের নদীসমূহের উৎপত্তি হয়েছে। অতএব যখন তোমরা চাইবে, তখন ফেরদৌস চাইবে’ (বুখারী, ইবনু মাজাহ)। সূরা হিজরের উক্ত আয়াতে জাহান্নামের সাত দরজা দ্বারা দরজাই বুঝানো হয়েছে। সহীহ হাদিসে জান্নাতের আটটি দরজা আর জাহান্নামের সাতটি দরজার কথা বর্ণিত হয়েছে (ছহীহুল জামে’হা/৩১১৯)

    জাহান্নামের দরজা বা স্তরসমূহের নাম।
    ১. জাহীম ‘জ্বলন্ত আগুন’, ২. হুতামাহ ‘চূর্ণবিচূর্ণকারী’, ৩. হাবিয়াহ ‘অতল গহ্বর’, ৪. লাযা, ৫. সা’ঈর ‘উজ্জ্বল অগ্নিক’, ৬. সাকার ‘আকারযুক্ত’, ৭. আন-নার ‘আগুন’।

    জাহান্নামেন শাস্তির নমুনা : কবরে আজাবের সাপের কথা বর্ণনা দিয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসূল (সা.) বলেছেন, পাপীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কবরে এমন এক বিষাক্ত সাপ নিযুক্ত করা হবে, যে সাপের বিষ তো দূরের কথা তার নিঃশ্বাসেও এমন বিষ হবে যে, দুনিয়াতে সে যদি একটি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তাহলে তার বিষিক্রিয়ায় সব সবুজ গাছপালা মরে শুকিয়ে যাবে। পৃথিবীর মাটিতে কেয়ামত পর্যন্ত আর সবুজ গাছপালা গজাবে না। (তিরমিজি শরীফ)

    জাহান্নামের গভীরতা : জাহান্নামের তলদেশ সম্পর্কে প্রিয় নবীর বর্ণনা আল্লাহ তাআলা কোরআনে পাকে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনও কোনো সাহায্যকারী পাবে না।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৪৫) আর জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরকে বলা ‘হাবিয়া’। জাহান্নামের গভীরতা তথা নিম্নস্তর সম্পর্কে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) হাদিসের ভিতর বিশদ বর্ণনা করেছেন।
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে আমরা একটি বিকট শব্দ শুনতে পেলাম, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমরা জান এটা কিসের শব্দ?’ আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, ‘ইহা একটি পাথরের শব্দ যা সত্তর বছর আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আর তা আজ জাহান্নামের তলদেশে গিয়ে পৌঁছল।’ (মুসলিম)

    প্রিয় পাঠক আপনারাই ভাবুন, জাহান্নাম কত ভয়াবহ, সাধারণ একটি পাথর জাহান্নামের তলদেশে গিয়ে পড়তে যদি সত্তর বছর লাগে যখন মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে তখন তারও সত্তর বছর পরে জাহান্নামের তলদেশে গিয়ে পরতে হবে।দুনিয়ার আগুনে যখন আমাদের একটু হাত লাগে তখন সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হাত পুড়ে যায়। সুতারাং আপনারাই চিন্তা করুন এই জাহান্নাম কত ভয়াবহ। আল্লাহ তা’য়ালা মুনাফেকদের জাহান্নামের সেই গভীর তলদেশে শাস্তি প্রদান করবেন। যেখানে ভয়াবহতা হবে মহা কঠিন। (চলবে)

    জাহান্নামিদের খাবার: যে সকল লোকদেরকে আল্লাহ জাহান্নামে পাঠাবেন তাদের জন্য জাহান্নামে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে রেখেছেন। নিম্মে তা বিস্তারিত দেওয়া হলো।

    ১. গাদের মতো পানি : পাপিরা আজাব ভোগ করতে করতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়বে। তারা তখন পানি চাইবে। তখন তাদের গাদের মতো পানি দেয়া হবে। তা পান করা মাত্রই মুখমণ্ডল ঝলসে যাবে। এ পানি জাহান্নামিদের বাধ্য হয়ে পান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : পরিষ্কার বলে দাও, এ হচ্ছে সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, এখন যে চায় মেনে নিক এবং যে চায় অস্বীকার করুক। আমি (অস্বীকারকারী) জালেমদের জন্য একটি আগুন তৈরি করে রেখেছি যার শিখাগুলো তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলেছ ‘আমি জালেমদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদের পরিবেষ্টন করে থাকবে। তারা পানি চাইলে তাদের দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে, এটা নিকৃষ্ট পানীয়! আর জাহান্নামের কত নিকৃষ্ট আশ্রয়।’ (সূরা কাহফ : ২৯)

    ২. জাক্কুম : জাক্কুম ইহা এক ধরনের বিষধর বৃক্ষের ফল, যাহা জাহান্নামের তলদেশে উৎপন্ন হয়। এই ফল অত্যন্ত ভয়ংকর। এর দ্বারা জাহান্নামিদের শারীরিক কোনো উপকার হবে না। বরং জাক্কুম ফল খাওয়া মাত্রই জাহান্নামিদের শারীরিক যন্ত্রণা আরও অনেক বেড়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : ‘নিশ্চয়ই জাক্কুম গাছ পাপীর খাদ্য হবে, গলিত তামার মতো পেটে ফুটতে থাকবে। যে রকম ফোটে পানি। একে ধরো এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে, তারপর তার মাথার ওপর ফুটন্ত পানির আজাব ঢেলে দাও, স্বাদ গ্রহণ করো, তুমিতো সম্মানিত, সভ্রান্ত। এ সম্পর্কে তোমরা সন্দেহে পতিত ছিলে।’ (সূরা দুখান : ৪৩-৫০)

    ৩. গিসলিন : জাহান্নামিদের দেহ থেকে প্রবাহিত রক্ত ও পুঁজের সমষ্টিকে বলা হয় গিসলিন। এ গিসলিন হবে জাহান্নামিদের নিকৃষ্ট খাবার। এ ধরনের পচা খাবার দ্বারা জাহান্নামিদের ক্ষুধা মেটাতে চাইলেও ক্ষুধা মিটবে না। কারণ, এটাও জাহান্নামিদের একটি কঠিন আজাব। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘অতএব, আজকের দিনে এখানে তার কোনো সুহৃদ নেই। আর কোনো খাদ্য নেই ক্ষত-নিঃসৃত গিসলিন ছাড়া। অপরাধী ছাড়া কেউ এটা খাবে না।’ (সূরা হাক্কা : ৩৫-৩৭)

    ৪. হামিম : হামিম বলতে বুঝানো হয়েছে জাহান্নামের আগুনে ফোটানো উত্তপ্ত গরম পানি। এই পানি পান করার পর পেটের ভেতরে সবকিছু গলে যাবে। নাড়িভুঁড়ি তরল পদার্থের মতো গড়িয়ে পরবে এবং চামড়া ঝলসে যাবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘এবং যাদের পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে।’ (সূরা মুহাম্মদ : ১৫)।

    ৫. দরি : জাহান্নামিরা যখন খাবার চাইবে, তখন তাদের সামনে দরি নামক খাবার উপস্থিত করা হবে। এ দরি হচ্ছে এক ধরনের দুর্গন্ধময় বিষাক্ত কাঁটা। এর দ্বারা দোজখের বাসিন্দাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে না। এরপরও দরিকেই খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে জাহান্নামিদের। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : তাদের জন্য কাঁটাওয়ালা শুকনো ঘাস ছাড়া আর কোনো খাদ্য থাকবে না। তা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং তাদের ক্ষুধাও মিটাবে না। (সূরা গাশিয়া : ৬-৭)

    ৬. সদিদ : আখিরাতে কাফেরদের স্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম। এখানে তারা অনন্তকাল জ্বলতে থাকবে। তাদের শরীর থেকে গোশত ও চামড়া বিগলিত হয়ে গড়িয়ে পড়বে। সেটা অত্যন্ত দুর্গন্ধ ও ঘন হবে। এই দুর্গন্ধময় পুঁজকে সদিদ বলা হয়। এ সদিদই জাহান্নামিদের খাবার হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘তাদের প্রত্যেকের জন্য পরিণামে জাহান্নাম রয়েছে এবং পান করানো হবে গলিত পুঁজ, যা সে অতি কষ্টে একেক ঢোঁক করে গলধঃকরণ করবে এবং তা গলাধঃকরণ করা প্রায় সহজ হবে না। সর্বদিক থেকে তার কাছে আসবে মৃত্যু যন্ত্রণা; কিন্তু তার মৃত্যু ঘটবে না এবং এরপর কঠোর শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।’ (সূরা ইবরাহিম : ১৬-১৭)

    ৭. গাসসাক : গাসসাক হচ্ছে অধিক ঠাণ্ডা পানি, যা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা থাকার কারণে পান উপযোগী নয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন : ‘এ হচ্ছে হামিম ও গাসসাক, অতঃপর তারা একে আস্বাদন করুক।’ (সূরা সাদ : ৫৭)

    জাহান্নামিদের পোশাক পরিচ্ছদ : জাহান্নামিদের পোশাকের কথা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) হাদিসে বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো। ‘আর সেদিন তুমি অপরাধীদের দেখবে তারা শিকলে বাঁধা। তাদের পোশাক হবে আল কাতরার এবং আগুন তাদের চেহারাসমূহকে ঢেকে ফেলবে।’ (সূরা ইবরাহিম : ৪৯-৫০)

    তাদের জন্য আগুনের পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে। সাঈদ ইবন জুবায়ের র. বলেন, তামার তৈরি পোশাক যা উত্তাপ দিলে অত্যধিক গরম হয়। ‘এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ, যারা তাদের রব সম্পর্কে বিতর্ক করে। তবে যারা কুফরী করে তাদের জন্য আগুনের পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর থেকে ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি। যার দ্বারা তাদের পেটের অভ্যন্তরে যা কিছু রয়েছে তাও তাদের চামড়াসমূহ বিগলিত করা হবে।’ (সূরা আল-হাজ্জ : ১৯-২০)

    তারা শিকলে বাঁধা থাকবে। অর্থাৎ একজনের সঙ্গে অন্যজনকে বেঁধে রাখা হবে। প্রত্যেক শ্রেণির অপরাধীকে সম-অপরাধীর সঙ্গে বেঁধে রাখা হবে। [তাফসীরে ইবন কাসীর : ২/৫৪৫] তাদের মাথার উপর থেকে ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি। সাঈদ ইবন জুবায়ের রহ. বলেন, তামার পাত্রে পানি ফুটানো হবে, ফলে তা মারাত্মক গরম হবে। তাদের মাথায় ঢেলে দিলে পেট থেকে সব গলে বের হবে এবং ও চামড়া জ্বলে পুড়ে যাবে। [তাফসীরে ইবন কাসীর : ৩/২১৩, ৪/৪২, ৪৬৫]

    তাদের পোশাক হবে আলকাতরার। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তামার দ্রবীভূত উষ্ণ পোশাক। [তাফসীরে ইবন কাসীর : ২/৫৪৫]

    আবু মালিক আল-আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মাতের মধ্যে জাহিলিয়াত বিষয়ের চারটি জিনিস রয়েছে যা তারা ত্যাগ করছে না। বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব, অন্যের বংশের প্রতি কটাক্ষ, গ্রহ-নক্ষত্রের মাধ্যমে! বৃষ্টি প্রার্থনা এবং মৃতদের জন্য বিলাপ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, বিলাপকারী যদি তার মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করে, তবে কিয়ামতের দিনে তাকে দাঁড় করানো হবে, তখন তার দেহে আলকাতরার আবরণ থাকবে এবং খসখসে লোহার পোশাক থাকবে।’ [মুসলিম, হাদিস নং ৯৩৪]

    আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে এই জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুক আমিন।

    লেখক: শিক্ষক, তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা,

    নারায়ণগঞ্জ শাখা

    বিআলো/তুরাগ

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    August 2025
    M T W T F S S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031