জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জেপিবি’র আত্মপ্রকাশ
নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ জেপিবি’র আত্মপ্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তিতে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি)’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। দলটি মনে করে, ২০২৪ সালের ঐ গণঅভ্যুত্থান ছিল একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জনসমর্থনপ্রাপ্ত, সশস্ত্র নয়—তবু প্রবল প্রতিরোধমুখী এক আন্দোলন, যা স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে দেশকে নতুন পথে পরিচালিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং স্মরণ করা হয় গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার কথা, যারা দেশের ভবিষ্যতের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। বক্তারা বলেন, একাত্তরের পর এটি ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত ও গণভিত্তিক আন্দোলন, যা গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
কিন্তু এই অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের বর্ষপূর্তির সময়ে, যখন জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে শহীদদের, ঠিক তখনই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় জনতা পার্টি। তারা এই হামলাকে ক্ষমার অযোগ্য উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
দলের মতে, এই আন্দোলনের পেছনে যে তিনটি স্তম্ভ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—তা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী অন্তবর্তী সরকার জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে জেপিবি। রাজনৈতিক সংস্কারে ধীরগতি, প্রশাসনে পুরনো স্বৈরশাসকের অনুগতদের প্রভাব, ও সংস্কারের নামে এলিটমুখী কার্যক্রম—সবকিছু মিলিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
তারা অভিযোগ করে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিভাজনকে ঘনীভূত করেছে। ‘জুলাই সনদ’ আজ কেবল একটি দলীয় বৈধতার কাগজে পরিণত হয়েছে। কখনও বিএনপি, কখনও জামায়াত অথবা এনসিপিকে ব্যবহার করে গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
দলের ভাষ্যমতে, রাজনীতিতে অপসংস্কৃতি এখন চরমে পৌঁছেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া, তারেক রহমান, চরমোনাইয়ের পীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অশালীন কুৎসা-প্রচারে রাজনৈতিক পরিসর কলুষিত হয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানায় জেপিবি।

দলটি তাদের লক্ষ্য হিসেবে একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। মব ভায়োলেন্স, দলীয় দখল, নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা, চাঁদাবাজি, হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বন্ধ করার দাবিও তোলে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উপযোগী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দেশের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে বলেও সতর্ক করে।
জেপিবির মতে, গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যে ৩৫% শুল্ক আরোপ করেছে—যা গার্মেন্টস খাতের জন্য বড় ধাক্কা। এর বিকল্প কৌশল নির্ধারণে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, এবং দলটি এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়।
তবে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, একাধিকবার পত্র দেওয়ার পরও সংস্কার আলোচনায় তাদের ডাকা হয়নি। তারা মনে করেন, দলে অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাবেক মন্ত্রী, আমলা, সাংবাদিক থাকলেও তাদের অবদান সরকার মূল্যায়ন করছে না।
দলটি দাবি করে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গুম-খুনের বিচার, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি, কোর্টের স্বাধীনতা ও ইনসাফের বাংলাদেশ গঠন এখন সময়ের দাবি।
জেপিবি জানায়, তারা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। যদি কোন তথ্য অসম্পূর্ণ থাকে, তবে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধন করতে প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে জানানো হয়, “আমরা বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন। সাংবাদিকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন মহাসচিব শওকত মাহমুদ।
উপস্থিত ছিলেন—ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল হক হাফিজ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান, রেহানা সালাম, অ্যাডভোকেট এম. আব্দুল্লাহ, মেজর অব ইমরান, এম এ ইউসুফ, উপদেষ্টা শাহ মোঃ আবু জাফর, মেজর অব মুজিব, মোজাম্মেল হক, যুগ্ম মহাসচিব রফিকুল হক তালুকদার রাজা, সমন্বয়কারী নুরুল কাদের সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল কবির, শিউলি সুলতানা রুবি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌসী মাহমুদ, মুরাদ আহমেদ, ডা. মো. মাসুদুজ্জামান, আবু সুফিয়ান, দপ্তর সম্পাদক মৃধা মোহাম্মদ আল-আমিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মো. সোলায়মান, সদস্য এস কে রোমা ও নাজমুল হাসান লিমন প্রমুখ।
বিআলো/তুরাগ