ঢাকা-১৪ আসনে প্রার্থীর জোয়ার

ঢাকা-১৪ আসনে প্রার্থীর জোয়ার

*আলোচনার শীর্ষে যারা

সুমন সরদার: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুতে সদ্য শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪ আসনটি ঘিরে দিনদিন উৎসাহ বাড়ছে সর্বসাধারণের। চাউর রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অর্ধশতাধিক নেতা তৈরি হচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশার। এরই মধ্যে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের অনেক নেতার ব্যানার ও পোস্টার শোভা পাচ্ছে পাড়া মহল্লার অলিতে-গলিতে।

তবে সূত্রগুলো বলছে, নেতৃত্বের দক্ষতা সম্পন্ন ও জনপ্রিয় প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ। হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক ও একাধিক সংস্থা এরই মধ্যে শুরু করেছে জরিপ। তবে কে হবেন আসলামুল হকের স্থলাভিষিক্ত তা নিয়ে নানা হিসাবও কষছেন নীতিনির্ধারকরা।

এরই মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। সব প্রার্থীই সরব রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। উপনির্বাচনটি ঘিরে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগরের উত্তরের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, আলোচনায় আছেন আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী। এছাড়া আলোচনায় আছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তার কর্মী, সমর্থকরা। করোনা সংকটে অসহায় ও নিম্ন্নবিত্তের মানুষের পাশে থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন ত্রাণ ও সহযোগিতার কার্যক্রম। তবে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করছে দলের নীতি নির্ধারকদের ওপর। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করার কথা জানান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তবে নির্বাচন নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না বলে জানান জনপ্রিয় এ যুবলীগ নেতা।

এদিকে ঢাকা-১৪ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ইফতারসামগ্রী বিতরণ ও অসহায় দুস্থদের মাসব্যাপী সেহেরি বিতরণের কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী। সূত্র বলছে ঢাকা উত্তর সিটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোবাশ্বের চৌধুরী আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচন করার। যে কারণে কাউন্সিলর নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। গরিব অসহায়দের অত্যন্ত প্রিয়জন মোবাশ্বের চৌধুরী বলেন, নির্বাচন নয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছি। দলের নীতিনির্ধারকরা সরেজমিনে জরিপ করে জনপ্রিয়তা দেখেই মনোনয়ন দিবেন বলে আশা করেন তিনি।

এই আসনটির উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবার বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থকরা। প্রয়াত আসলামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে ছিলেন তিনি। আসলামুল হকের বিরুদ্ধে জমি দখল, অর্থনৈতিক নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদীও ছিলেন তুহিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসলামুল হককেই বেছে নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা। এলাকায় থেকে নিজের অনুসারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এ যুবলীগ নেত্রী।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির পক্ষে জনসমর্থন রয়েছে এই উপনির্বাচনটি ঘিরে। সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। এদিকে ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। গত সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন তিনি। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধান করতে কাজ করছেন জানিয়ে ডিপজল বলেন, আমি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছি। এ এলাকার মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করতে চান তিনি।

প্রার্থীদের ঢল থামাতে এরই মধ্যে সক্রিয় হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের নেতারা। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির উদ্যোগে গত ২৫ এপ্রিল মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় এ ব্যাপারে একটি বৈঠক হয়। এতে ঢাকা-১৪ আসনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যে কেউ প্রার্থী হতে চাইলেই তার পেছনে না গিয়ে দলের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিআলো/ইলিয়াস