ঢাকা-৫ এ বড় ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীর জয়, পাল্টে গেল নগর রাজনীতির সমীকরণ
নগর রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান
২৯ হাজার ভোটে বিজয়ী জামায়াত, স্পষ্ট বার্তা ভোটারদের
ভোটের রায়ে একদিকে ঝুঁকল পাল্লা, ঢাকা-৫ এ বড় ব্যবধান
ইবনে ফরহাদ তুরাগঃ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৫ আসনে ফলাফল যেন নতুন রাজনৈতিক প্রবণতার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রচলিত শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোটের মাঠে এগিয়ে গিয়ে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এবার ভোটারদের রায় একদিকে ঝুঁকেছে দৃঢ়ভাবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আসনটির ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নবী উল্লা পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৪৯১ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ভোটে, যা আসনটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর আওতাধীন ১২টি ওয়ার্ডে মোট ১৫০টি কেন্দ্রে ৭৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা এবং আংশিক কদমতলী থানা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসন দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এ আসনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড।
প্রসঙ্গত, এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিএনপির মো. নবী উল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাজী মো. ইবরাহীমের মধ্যে। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নেন, তবে ভোটের লড়াই মূলত এ তিন প্রার্থীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু একটি আসনের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং নগর ভোটারদের মানসিকতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। ভোটের বাক্সে জমে থাকা প্রত্যাশা, অসন্তোষ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই বড় ব্যবধানে এই ফলাফল এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এখন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থানই বলে দেবে—এই জয় ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে।
বিআলো/নিউজ



