দায়িত্বশীল শিক্ষকতাই মানসম্মত উচ্চশিক্ষার ভিত্তি: বাউবি উপাচার্য
মো. মনির হোসেন, গাজীপুর : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে ‘বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে অগ্রযাত্রা: বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর র্যাংকিং অর্জনের কৌশল’ বিষয়ক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ ।
গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সোমবার সকাল ১০:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের শিক্ষক কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আউটকাম বেইসড এডুকেশনের (OBE) কোন বিকল্প নেই।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম, শিক্ষকতা বা পড়ানোর কৌশল ও মূল্যায়ন পদ্ধতি আধুনিক না করলে বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্র্যাজুয়েটরা পিছিয়ে পড়বে। দায়িত্বশীল শিক্ষকতাই মানসম্মত উচ্চশিক্ষার ভিত্তি। ট্রেনিং মানে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজের জ্ঞানকে আরও পরিশীলিত ও যুগোপযোগী করা। ক্লাসরুমের বাইরে কোনো অর্জন টেকসই হয় না।
শিক্ষক হিসেবে নিজেদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শিক্ষকতা বা পাঠদানের কৌশল, কারিকুলাম উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলস ও রেগুলেশন জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও আসন্ন পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিকুলামকে জব মার্কেটের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, নচেৎ গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বড় ফাঁক থেকেই যাবে।
আইকিউএসি শুধু শিক্ষক নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশাসনিক দক্ষতা, গবেষণা সক্ষমতা এবং সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে। গবেষণা, প্রকাশনা, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সময়মতো সেবা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিং এগিয়ে নেওয়ার প্রধান শর্ত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্বকে নিজের মনে করে আন্তরিকভাবে কাজ করলে শিক্ষার্থী সন্তুষ্টি বাড়বে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি শক্তিশালী হবে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাউবির অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক এম. শেখ।
তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য পাশ্চাত্যের শিক্ষামডেল হুবহু অনুকরণ নয় বরং নিজস্ব বাস্তবতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা প্রয়োগ করাই সবচেয়ে কার্যকর। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, জাপান পশ্চিমা ধারণাকে নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেই স্বল্প সময়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে।
উচ্চশিক্ষার র্যাংকিং ব্যবস্থা মূলত প্রযুক্তি ও গুণগত মানের একটি সূচক যা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ ও অভিযোজন করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, র্যাংকিং আমাদের দুর্বলতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে এবং সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ। বাউবির সাতটি স্কুল থেকে ৪০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
বিআলো/আমিনা



