দালালদের দখলে গাজীপুর বিআরটিএ
মো. আনোয়ার হোসেন: দুর্নীতিবাজদের স্বর্গরাজ্য গাজীপুর বিআরটিএ। দালালদের কারণে সেবাপ্রার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সেবা দেয়ার নামে চলচ্ছে ঘুষ বাণিজ্য। কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে দালালের শরণাপন্ন হতে হয়। ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি প্রতিরোধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে দালালদের মাধ্যমে গাজীপুরে বিআরটিএ অফিস পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনার মূল অধিনায়ক হচ্ছেন পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম সুমন ও শাহআলম। এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, বিআরটিএ অফিসের সেবা নিতে আসা সকলেই হয়রানির শিকার হতে হয়। তাদের হাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্র সেবার নামে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কেউ কেউ বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন। বিআরটিএ অফিসে রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন এবং রুট পারমিট সকল ক্ষেত্রেই ঘুষ বাণিজ্য চলছে ওপেন সিক্রেট। এছাড়া বিআরটিএ ভবনে কিছু দালালের নিজস্ব চেম্বারও রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উত্তর পাশে দ্বিতীয় তলায় বিআরটিএ অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন রুম ও সামনের খোলা ছাদে দালালদের ভিড়। দেখা মিলে এক দালাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য এক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। তার নাম বারেক। বয়স অনুমান ৫৫ বছর। পরনে সাদা পাঞ্জাবি। সে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজসে এই বাণিজ্য করে আসছে। তিনি মহানগরীর সদর থানার পূর্ব ভুরুলিয়া মরহুম আ. বারেকের ছেলে। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুনকে জানানো হলে উনি পরিদর্শক সুমনকে মোবাইল ফোনে এই দালালকে আটকেনা নির্দেশ দেন।
সেবাপ্রার্থীরা জানান, তারা দালালদের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ও ব্যাংকে ফি জমা দিয়েছেন। দালালরা সাধারণত বোর্ডের টাকাসহ ১০-১২ হাজার টাকা করে নেন। দালাল ছাড়া লাইসেন্স হয় এই সংখ্যা খুব কম। দালালরা কাজ নেওয়ার সময় বলে দেন লিখতে না পারলে, গাড়ি না চালাতে পারলেও কোন সমস্যা নেই। ইন্সপেক্টরকে টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করতে করেন সেবাপ্রার্থীদের। তারা আরও জানান, কর্মকর্তারা লাইসেন্স নবায়নসহ বোর্ডে পাস কার্ড বাবদ দালালদের মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেন। দালালরা বোর্ডের টাকা অফিসের নির্ধারিত কর্মচারী শাহ আলমের কাছে দেন। পরে তা মোটরযান পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম সুমনের কাছে জমা হয়। সেখান থেকে পদ অনুযায়ী ভাগ-বাটোয়ারা হয়। গোপন সুত্রে জানা যায়, বিআরটিএতে বর্তমানে সপ্তাহে একদিন পরপর পরীক্ষার বোর্ড বসে। মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। ৯শ’ থেকে ১ হাজার প্রার্থীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও নবায়ন পরীক্ষায় মাসে দশ থেকে বার ঢাকার মতো ঘুষ আদায় হয়। এতে মাসে আদায়কৃত ঘুষের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। অফিসে এতসব অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিতে অনীহা সহকারী পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
এ বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিআরটিএ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি আমার নেই। সে কারণে আমি কিছু বলতে পারছি না। অপরদিকে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদের অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সাড়া দেননি।
বিআলো/তুরাগ